ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় সংসদে। তবে এ অভিযোগ নাকচ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, বরাদ্দ প্রদানে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং প্রয়োজন ও চাহিদাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি উত্থাপন করেন এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ৩০ এপ্রিল মন্ত্রণালয় থেকে ৮৫ লাখ টাকা এবং ৯০ টন চাল-গমের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা কেবল সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় বরাদ্দ করা হয়েছে।
আখতার হোসেন বলেন, “দুর্যোগ কখনো সরকারি বা বিরোধী দল দেখে আসে না। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমে বৈষম্যের সুযোগ নেই।”
জবাবে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ পরিস্থিতি ও স্থানীয় প্রয়োজনের ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “যেখানে দুর্যোগ ঘটে, সেখানে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে জিআর ক্যাশ ও জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। আর টিআর ও কাবিখা কর্মসূচির ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “আমার ধারণা, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই বিরোধী দলের সদস্যরাও তাদের প্রাপ্য বরাদ্দ পেয়ে যাবেন।” এ সময় ডেপুটি স্পিকারও মন্তব্য করেন, “আপনারাও বরাদ্দ পেয়ে যাবেন।”
একই ধরনের প্রশ্নের জবাবে এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদকে ত্রাণমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য কাবিটা কর্মসূচিতে ২৫ লাখ টাকা, টিআর কর্মসূচিতে ৩০ লাখ টাকা এবং কাবিখা কর্মসূচিতে ২০ মেট্রিক টন করে চাল ও গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় চাহিদা ও সংসদ সদস্যদের ডিও লেটারের ভিত্তিতে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের নির্বাচনী এলাকাতেই অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদান করা হচ্ছে।
অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য নূরুন্নিসা সিদ্দীকার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ৫৮৮টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, ৩২৭টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং ১১৫টি দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১১৫টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, ৯০টি বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্র এবং ১১২টি নতুন দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে বিএনপির সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে ২ কোটি ২ লাখ ১ হাজার ৫৩৬ জন উপকারভোগীর মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এ জন্য মোট ২ লাখ ২ হাজার ১৫ দশমিক ৩৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের জন্য চালের পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মোঃ জাকির হোসাইন,সম্পাদক