অনলাইন জুয়ার এজেন্ট সিম সরবরাহ, টাঙ্গাইলে আরও ৪ জন গ্রেপ্তার

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ দুপুর
  • ১৯৬৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ কমিশন কেটে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে টাঙ্গাইলে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—টাঙ্গাইল সদর থানার বড় বাশালিয়া এলাকার বাবলু মিয়া (২৮), বাগীল এলাকার মো. মনির হোসেন (৩০), সখিপুরের জেলখানা মোড় এলাকার নূর সাফায়েত ইপ্তি (২৪) এবং তালেপাবাদ এলাকার শামীম আল মামুন (২৯)।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য জানান।

জুয়ার সাইটে এজেন্ট সিম সরবরাহ

সিআইডি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অনলাইন জুয়ার সাইটে নিজেদের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা অর্থের বিনিময়ে এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে অনলাইন জুয়া চক্রের অ্যাডমিন সদস্যদের কাছে সরবরাহ করতেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, এসব সিম অনলাইন বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহার করা হতো।

ব্যাংক ও ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মে অর্থপাচার

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ওয়েবসাইটের সক্রিয়তার তথ্য পায় সিআইডি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার বিজ্ঞাপনও প্রচার করা হচ্ছিল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে বেটিং পরিচালনার তথ্যও পাওয়া যায়।

এরপর বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা করে। গত ১৭ মে মামলাটি করা হয়।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনাক্ত

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে বেটিং সাইটে ব্যবহার করছিলেন।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টরা কমিশন কেটে রাখার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ বিদেশে পাচার করা হতো। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলাটির তদন্ত বর্তমানে সাইবার পুলিশ সেন্টার পরিচালনা করছে। অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-লেনদেন ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: সিআইডি, মামলার এজাহার ও প্রাথমিক তদন্তসংক্রান্ত তথ্য।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad