খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায়ে শক্তির প্রদর্শন, বিশ্বকে কী বার্তা দিতে চায় ইরান?

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:১৪ দুপুর
  • ১৭৮৬৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের পর ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্বকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে তেহরান। রাজধানী তেহরানজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, ব্যাপক জনসমাগম এবং রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি এই আয়োজনকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বিদায় অনুষ্ঠানে পরিণত করেছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাষ্ট্রের সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং জনগণের সংহতি প্রদর্শনের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। জানাজায় কয়েক কোটি মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে সরকার।

অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শ্রমিক সংগঠন, দমকল বাহিনী, সেনাসদস্য ও উদ্ধারকর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ইরাকের শিয়া অধ্যুষিত এলাকাতেও শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বার্তায় বলেন, “আমাদের রক্তঋণের আহ্বান বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে। সবাইকে জানতে হবে, ইরান কখনো মাথা নত করবে না।”

নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির ছেলে মোজতবা আলী খামেনি প্রকাশ্য জানাজায় অংশ নিচ্ছেন না। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে খামেনির দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই হামলার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হয়। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং কাতার ও পাকিস্তানের উদ্যোগে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি

জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আগত শোকাহত মানুষের জন্য ১৬টি ভ্রাম্যমাণ বেকারির মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি রুটি প্রস্তুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নগরজুড়ে সবচেয়ে বড় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি ২ হাজার ৫০০ অ্যাম্বুলেন্স, ২১টি হেলিকপ্টার, ১০০টি ড্রোন এবং ২০ হাজার শ্রেণিকক্ষ অস্থায়ী আবাসন হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তীব্র গরমে জনসাধারণের স্বস্তির জন্য মোসাল্লা কমপ্লেক্স এলাকায় ৬ হাজারের বেশি পানির স্প্রিঙ্কলার স্থাপন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি

খামেনির শেষ বিদায়ে বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।

এ ছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ এবং রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন ও কেন্দ্রীয় উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গারিটা, চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি হে ওয়েই, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ছাড়াও ফিলিস্তিনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

তবে পশ্চিমা কোনো দেশের সরকারি প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

রাজনৈতিক বার্তার কেন্দ্রবিন্দু

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এই রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান শুধু শোক প্রকাশের জন্য নয়; বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের স্থিতিশীলতা, জাতীয় ঐক্য এবং প্রতিরোধের সক্ষমতা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

অন্যদিকে, বিশাল এই আয়োজনের কারণে তেহরানের সাধারণ মানুষকে তীব্র যানজট, জ্বালানি সংকট এবং দৈনন্দিন ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

সূত্র: সিএনএন, আল জাজিরা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad