দিল্লিতে ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রায় পুলিশের লাঠিচার্জ, উত্তপ্ত রাজধানী

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২০ জুলাই ২০২৬, ০১:১৯ দুপুর
  • ১২৬৬৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ঘোষিত ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সোমবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন সংসদ অভিমুখে অগ্রসর হওয়া বিক্ষোভকারীদের বাধা দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জাতীয় মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে হাজার হাজার সিজেপি সমর্থক অংশ নেন। এর আগে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করার ঘটনায় আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। একই সঙ্গে মধ্য দিল্লির কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়।

সংঘর্ষের মধ্যেই সিজেপি এক বিবৃতিতে তাদের সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানায়। দলটি জানায়, পথে বাধার মুখে পড়লেও শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে হবে এবং শান্তি ও ভালোবাসার মাধ্যমেই আন্দোলন সফল হবে।

এর আগে রোববার দিল্লি পুলিশ পদযাত্রার ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যন্তর মন্তর নির্ধারিত এলাকা ছাড়া রাজধানীর অন্য কোথাও পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, মিছিল কিংবা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় দিল্লি পুলিশ জানায়, পূর্বানুমতি ছাড়া যন্তর মন্তর ছাড়া অন্য কোথাও কোনো ধরনের বিক্ষোভ বা সমাবেশ করা যাবে না। আইন মেনে চলতে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হলেও আন্দোলনকারীরা পদযাত্রা শুরু করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন দিল্লির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন—রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও সেবা তীর্থ—সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব স্টেশনে ট্রেন চলাচল ও যাত্রী প্রবেশ বন্ধ থাকবে।

উল্লেখ্য, গত মে মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখো পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের সূচনা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে আন্দোলনের অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখে পৌঁছে যায়। পরে এটি অনলাইন পরিসর ছাড়িয়ে দেশব্যাপী আন্দোলনে রূপ নেয় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়।

এদিকে ৫৯ বছর বয়সী সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক রোববার তার স্ত্রীর মাধ্যমে এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় এই পদযাত্রাকে ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অন্যায়, অবৈধ আটক এবং ভয়ের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার আন্দোলন।

সূত্র: এনডিটিভি




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad