রাতের খাবার নিয়মিত বাদ দিচ্ছেন? বাড়তে পারে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৩ দুপুর
  • ৬৪২১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ব্যস্ত কর্মজীবন, দীর্ঘ যানজট, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা ওজন কমানোর চেষ্টা—বিভিন্ন কারণে অনেকেই নিয়মিত রাতের খাবার এড়িয়ে যান। আবার কেউ কেউ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের পর আর খাবার গ্রহণ করেন না। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মাঝে মধ্যে রাতের খাবার বাদ দিলে সাধারণত বড় ধরনের সমস্যা না হলেও এটি যদি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার দৈনন্দিন পুষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ ঘুমের সময় দীর্ঘ সময় শরীর খাবার ছাড়াই থাকে। তাই ঘুমানোর আগে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস সামাজিক ও মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রাতের খাবার বাদ দিলে শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবঘড়ির স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া ও বিপাকক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এ অভ্যাস বজায় থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি এবং অকাল মৃত্যুর সম্ভাবনাও বাড়তে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাতের খাবার না খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রায় ওঠানামা হতে পারে। এতে দুর্বলতা, শক্তি হ্রাস, মাথা ঘোরা কিংবা হাত কাঁপার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও বেশি।

অন্যদিকে, গভীর রাতে খাবার খাওয়ার অভ্যাসও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। গবেষণা বলছে, রাত করে খাবার খেলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী লেপটিন হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে। এর ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং স্থূলতার ঝুঁকিও বাড়ে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, নিয়মিত খাবার বাদ দেওয়ার সঙ্গে বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং অনিদ্রার মতো মানসিক সমস্যারও সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে এ ধরনের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

তাদের পরামর্শ, কোনো কারণে এক-দুদিন রাতের খাবার বাদ পড়লে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এটি যেন দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত না হয়। ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে রাতের খাবার সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে পরিমিত, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad