নেতানিয়াহুর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ, নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৩১ দুপুর
  • ৪৮৪৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ইসরাইলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনকে ঘিরে ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

২০২৫ সালে ‘ইয়াশার’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন আইজেনকোট। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ এবং সেই সংকট মোকাবিলায় নেতানিয়াহু সরকারের ভূমিকা এবারের নির্বাচনে অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

সম্প্রতি স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১২ পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ১২০ সদস্যের ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে আইজেনকোটের দল ইয়াশার ২৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ দলের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ২২টি।

একই জরিপে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৬৬ বছর বয়সী গাদি আইজেনকোটকে সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৪ শতাংশ।

তবে আইজেনকোটের রাজনৈতিক অবস্থানও কঠোর নিরাপত্তানির্ভর। হামাসের হামলার পর তিনি ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে অপ্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া লেবাননে ইসরাইলের কঠোর সামরিক কৌশলের অন্যতম প্রবক্তা হিসেবেও তিনি পরিচিত। শত্রুপক্ষের যেকোনো হামলার জবাবে আরও শক্তিশালী সামরিক প্রতিক্রিয়ার নীতিতে তিনি বিশ্বাসী।

বর্তমানে ১০ দফা কর্মসূচিকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন আইজেনকোট। তার দাবি, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইসরাইলের নিরাপত্তা, জাতীয় ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আইজেনকোট তার নির্বাচনি ইশতেহারে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনায় একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ওই হামলার পরই গাজা যুদ্ধের সূচনা হয় এবং পরে তা বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেয়। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ব্যর্থতার অভিযোগও ওঠে।

এ ধরনের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের দাবিতে ইসরাইলে একাধিকবার বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার রাজনৈতিকভাবে নির্বাচিত সদস্যদের মাধ্যমে পৃথক কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।

এছাড়া আইজেনকোট দীর্ঘমেয়াদি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নের অঙ্গীকার করেছেন। তার পরিকল্পনায় সেনাবাহিনী ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের সুরক্ষার বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে আইজেনকোটের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad