রোববার দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ফের একসঙ্গে দেখা যায় মোদী, পুতিন ও শিকে। এর আগের দিনও তিন নেতার সঙ্গে নিজের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন মোদী। শনিবার ১১ দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ‘গ্রুপ ছবি’তেও পুতিন ও শিকে দুই পাশে রেখে দাঁড়িয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রাষ্ট্রনেতাদের একসঙ্গে ছবি তোলা স্বাভাবিক হলেও মোদী, পুতিন ও শির ত্রয়ীকে ঘিরে বরাবরই বাড়তি কূটনৈতিক আগ্রহ রয়েছে। গত বছর চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনেও তিন নেতাকে একই ফ্রেমে দেখা গিয়েছিল। ওই ছবি নিয়ে সে সময় কটাক্ষ করেছিলেন ট্রাম্প।
রাশিয়া ও চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, ব্রিকস জোট নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের অসন্তোষ বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ পেয়েছে। ফলে দিল্লিতে পরপর দুই দিন মোদী, পুতিন ও শির একসঙ্গে উপস্থিতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ নজর কেড়েছে।
দিল্লি-মস্কো ও দিল্লি-বেইজিং সমীকরণগত শুক্রবার দিল্লিতে পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন মোদী। পরদিন শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে, গলওয়ান সংঘাতের পর ভারত-চীন সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, গত দুই বছরে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে দুই দেশ।
ব্রিকস নিয়ে মোদী শনিবার স্পষ্ট করে বলেছেন, এই জোট কারও বিরুদ্ধে নয়। ১১ দেশের এই জোট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির সমালোচনাশনিবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে ব্রিকস। এতে কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা শুল্কনীতির সমালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়া ও গাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় ব্রিকস সদস্য ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা চলছে। অন্যদিকে, গাজায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল। ফলে যৌথ ঘোষণাপত্রে এই দুই অঞ্চলের পরিস্থিতির উল্লেখ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘোষণাপত্রে পহেলগাঁও হামলারও নিন্দা জানানো হয়েছে। ভারত শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, পাকিস্তান থেকে আসা জঙ্গিরা ওই হামলা চালিয়েছে। চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় পহেলগাঁও হামলার নিন্দায় শি জিনপিংয়ের স্বাক্ষরও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে চাপগত এক বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা হয়েছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর একতরফা শুল্ক আরোপ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনার বিরোধিতা—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের টানাপোড়েন বেড়েছে।
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর জরিমানা ও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ওয়াশিংটন। এমনকি ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে মোদী, পুতিন ও শির ধারাবাহিকভাবে একফ্রেমে উপস্থিতি ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ শক্তির সমীকরণ এবং বিশ্ব রাজনীতিতে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক