মিছিল থেকে সরকারকে আইনটি কার্যকর না করার আহ্বান জানান বক্তারা। একই সঙ্গে আইনটি নিয়ে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, আলেম-ওলামাদের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করেছে। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তাদের দাবি, জীবিত অবস্থায় বাবা-মাকে সম্পত্তি বণ্টনের সুযোগ দেওয়া হলে অনেক ক্ষেত্রে কন্যাসন্তানরা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
তারা আরও বলেন, আইনটি সংসদে তোলার আগে বাংলাদেশের আলেম-ওলামাদের মতামত নেওয়া হয়নি। তাই এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সমালোচনা করেন। তারা অভিযোগ করেন, তিনি আমেরিকার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বাংলাদেশবিরোধী ভূমিকা পালন করছেন। একই সঙ্গে সরকারকে সতর্ক করে বক্তারা বলেন, কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া উচিত হবে না।
বক্তারা বলেন, এই আইনের প্রতিবাদ শুধু কোনো একটি দলের দায়িত্ব নয়; দল-মত নির্বিশেষে সব মুসলমানের প্রতিবাদ করা উচিত। তারা বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে। অতএব জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো আইন কার্যকর করা হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।
এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনের আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বক্তারা বলেন, তিনি দেশ পরিচালনায় মদিনা সনদের কথা বলেছিলেন। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত সম্পত্তি আইন মদিনা সনদের নীতিরও পরিপন্থি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির—আল্লাহু আকবার’, ‘শরিয়তবিরোধী আইন বাতিল করতে হবে’, ‘কোরআনের বিরুদ্ধে যাস না, গদি কিন্তু থাকবে না’, ‘কোরআনবিরোধী কালো আইন মানি না, মানব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররম থেকে পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর পানির ট্যাংকি মোড় পর্যন্ত পৃথক সময়ে মিছিল করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মিছিলের নেতৃত্ব দেন মাওলানা মামুনুল হক। অন্যদিকে খেলাফত মজলিসের মিছিলের নেতৃত্ব দেন মাওলানা আহমদ আব্দুল কাদের বাচ্চু।
মিছিল দুটিতে উভয় দলের মহাসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বায়তুল মোকাররমে নামাজ আদায় করতে আসা সাধারণ মুসল্লিরাও অংশ নেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক