জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত পলাতক আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অধিকাংশ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল। এর অধিকাংশ অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন।
পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা এখন দণ্ডপ্রাপ্ত। তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হলে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চার আসামির ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্তরায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় অনুযায়ী সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং জুলাই ফাউন্ডেশন বা কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। বিক্রয়লব্ধ অর্থ জুলাইয়ের আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, কার কী সম্পদ রয়েছে, সরকার তা খুঁজে বের করবে। রায়ে যেসব সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করা হবে।
৩০ দিন আপিলের সুযোগচিফ প্রসিকিউটর বলেন, রায় প্রকাশের পর ৩০ দিন পর্যন্ত আপিলের সময়সীমা থাকবে। এ সময়ের মধ্যে কোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক