বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানানো হয়। এতে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৈঠকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সাত দফা দাবিতে অনুষ্ঠেয় ঢাকা-রংপুর লংমার্চের প্রস্তুতি, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, পৃথিবীর কোনো ইতিহাসে গণভোটের রায় বাতিলের ঘটনা নেই। অথচ গণতন্ত্রের নামে ক্ষমতায় যাওয়া সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রত্যাখ্যান করে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করেছে।
তিনি বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে বলে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাওয়া উচিত নয়।’
জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কোরআন-সুন্নাহর আইন পরিবর্তন করে হেবা আইনে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায়ও পদদলিত করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দীর্ঘদিনের আইন পরিবর্তন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এখান থেকে আমরা সরকারকে ফিরে আসতে বলব।’
সংবিধান সংস্কার নিয়ে আপত্তিগোলাম পরওয়ার জানান, বেলা ১১টায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। লংমার্চের প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক সংকট নিয়েও আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, সাত দফা দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলন আরও গতিশীল করা এবং এতে জনগণকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে গণভোটকে উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের যে প্রক্রিয়া নিয়েছে, ১১ দলীয় ঐক্য তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এ প্রক্রিয়ার বিশেষ কমিটির একতরফা কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগেরও বিরোধিতা করা হয়েছে।
১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চগোলাম পরওয়ার জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী জনসভা হবে। এরপর গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে।
পথে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে প্রথম এবং টাঙ্গাইলের জালফৈ বাইপাস মোড়ে দ্বিতীয় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। যমুনা সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে জোহরের নামাজ আদায় করা হবে।
পরে বগুড়ার মাটিডালি ও সন্ধ্যায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। সবশেষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে লংমার্চ শেষ হবে। প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পাঁচটি পথসভা এবং রংপুরে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
লংমার্চে যুক্ত হতে আগ্রহীদের নিজ নিজ জেলার গাড়িবহর মূল বহরের পেছনে যুক্ত করার কথা জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সাংস্কৃতিক বিভাগের গাড়িসহ স্বেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তা, মেডিকেল, অ্যাম্বুলেন্স, তথ্যপ্রযুক্তি ও মিডিয়া বিভাগের ৮ থেকে ৯টি গাড়ি থাকবে। অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের গাড়িতে খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ঘোষণালংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন গোলাম পরওয়ার। কর্মসূচির কারণে কোনো ধরনের সমস্যা হলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন, সিভিল সোসাইটি, ট্রাফিক বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, ১১ দলের কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত। কোনো অনিয়মতান্ত্রিক অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুরের চিন্তা তাদের নেই।
তবে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইলে সেই চিন্তা থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ অন্যরা।
তথ্যসূত্র: আমার দেশ।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক