সংশ্লিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ায় গ্যাসনির্ভর শিল্পে স্বস্তি ফিরেছে। ফলে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সংকটের সময়ের ঘাটতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত উৎপাদন চালাচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছিল দেশের শিল্প, কৃষি ও জনজীবনে। বিশেষ করে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া ও সরবরাহে বিঘ্নের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের বাড়তি জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় বহন করতে হয়েছে।
অতিরিক্ত সময়েও উৎপাদনবাংলাদেশ তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক বাসসকে বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে অতীতে অনেক শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হলেও বর্তমানে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন আগের তুলনায় অনেক ভালো হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানি সংকটের কারণে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখা কঠিন হলেও সরকার বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে কাজ করছে। সরকার ও শিল্পমালিকদের যৌথ প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই শিল্প খাতে উৎপাদন পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পোশাক ও টেক্সটাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রেজা গ্রুপের চেয়ারম্যান শহীদ রেজা শিমুল বাসসকে বলেন, বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদন পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। গ্যাসের চাপ কম থাকা এবং সরবরাহে বিঘ্নের কারণে তৈরি হওয়া উৎপাদন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে শিল্পোদ্যোক্তারা বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন।
তিনি জানান, উৎপাদন ঘাটতি পুষিয়ে নিতে কারখানায় প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজ করানো হচ্ছে। পাশাপাশি শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও উৎপাদন চালু রাখা হচ্ছে। এভাবে বাড়তি উৎপাদনের মাধ্যমে গ্যাস সংকটের সময়ের ঘাটতি যতটা সম্ভব পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
কমছে বাড়তি জ্বালানি ব্যয়শহীদ রেজা শিমুল বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া বা সরবরাহ বন্ধ থাকার সময়ে উৎপাদন সচল রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করতে হয়েছে। এতে বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি উৎপাদন ব্যবস্থাপনাতেও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এখন গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় সেই বাড়তি চাপও কমে আসছে।
দেশ গ্রুপ অব কোম্পানিজের পরিচালক ও বিজিএমইএর সহসভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান বলেন, ‘এখন আমাদের উৎপাদন পরিস্থিতি খুব ভালো। সরকার ও ব্যবসায়ীসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গ্যাস সংকট কাটিয়ে কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক করতে পেরেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাসের চাপ ভালো থাকায় আগের চেয়ে পরিস্থিতি অনেক ভালো। ইনশাআল্লাহ আগামীতে কারখানার উৎপাদন পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ পরিস্থিতির বর্তমান উন্নতি অব্যাহত থাকলে শিল্পকারখানায় উৎপাদন আরও বাড়বে। একই সঙ্গে গ্যাস সংকটের সময়ে তৈরি হওয়া উৎপাদন ঘাটতিও ধীরে ধীরে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক