বিশ্বকাপের পর খ্যাতিই ভোজিনিয়ার অস্বস্তির কারণ

  • প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স
  • আপলোড সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৩ দুপুর
  • ২৫৬২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। তবে মাঠের সাফল্যের সঙ্গে পাওয়া বিপুল খ্যাতি এখন তার ব্যক্তিগত জীবনে তৈরি করেছে অস্বস্তি ও গোপনীয়তার সংকট। সুযোগ পেলে আগের নিরিবিলি জীবনেই ফিরতে চান ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।

বিশ্বকাপের আগে পর্তুগালের দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব শাভেসে অনেকটাই আড়ালে থেকে জীবন কাটাচ্ছিলেন ভোজিনিয়া। স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের প্রথম ম্যাচে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে গোলশূন্য ড্র এনে দেওয়ার পরই বদলে যায় তার জীবন।

ব্রাজিলের সম্প্রচারমাধ্যম কাজেটিভিতে তার পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে ভোজিনিয়ার অনুসারীর সংখ্যা ৫৬ হাজার থেকে বেড়ে ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।

‘আমার কোনো গোপনীয়তা নেই’

দ্য অবজারভারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভোজিনিয়া জানান, বিশ্বকাপের পর তিনি আগের মতো শান্তি ও স্বস্তিতে নেই। বাইরে বের হলেই রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন জায়গায় মানুষ ছবি তোলা ও অটোগ্রাফের জন্য এগিয়ে আসে। অনেকে আবার গোপনে ভিডিও ধারণ করেন।

তার ভাষ্য, খ্যাতির পর জীবনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ক্ষেত্রে।

বিশ্বকাপের সময় ড্রেসিংরুমে একের পর এক ফোন বার্তাও আসতে থাকে। দলের খাবার সরবরাহকারী এক কর্মী প্রথমে তাকে জানান, তার অনুসারীর সংখ্যা নাকি এক বিলিয়নে পৌঁছেছে। বিষয়টি বুঝতে না পেরে ভোজিনিয়া সেটিকে মজা মনে করেছিলেন। পরে মিক্সড জোনে এক সাংবাদিকের ফোনে নিজের অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরত্ব

হঠাৎ পাওয়া বিপুল জনপ্রিয়তা সামলাতে কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশন তার সাবেক এজেন্টকে সহায়তার জন্য যুক্ত করে। নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কিছুটা দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেন ভোজিনিয়া।

ইনস্টাগ্রামের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দেন তিনি। অনুসারীর সংখ্যা নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ তৈরি না করে ফুটবলে মনোযোগ ধরে রাখাই ছিল এর উদ্দেশ্য।

বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকেও বাণিজ্যিক প্রস্তাব আসতে থাকে। তবে তামাক, মদ ও বেটিং-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করতে চান না বলে স্পষ্ট করেন তিনি। প্রতিযোগিতা চলাকালে কেবল ইউএফএল মোবাইলের একটি প্রচারণায় অংশ নেন।

‘আগের জীবনই বেশি স্বস্তির ছিল’

খ্যাতির ভালো-মন্দের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভোজিনিয়া বলেন, অনেকেই জনপ্রিয় হতে চান; কিন্তু খ্যাতির সঙ্গে আসা বাস্তবতার কঠিন দিকগুলো তারা বিবেচনায় নেন না। নিজের ক্ষেত্রে বর্তমান জীবনের তুলনায় আগের নিরিবিলি জীবনই বেশি স্বস্তিদায়ক ছিল বলে জানান তিনি।

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর তার ক্যারিয়ারেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ভোজিনিয়া এখন চিলির বড় ক্লাব কোলো-কোলোতে খেলছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখে।

কেপ ভার্দের হয়ে ৯৪ ম্যাচ খেলা এই গোলরক্ষক এখনো জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আফ্রিকা কাপ অব নেশনস ২০২৭-এর বাছাইপর্বে মালির বিপক্ষে ৩-১ গোলে হারের ম্যাচেও পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন তিনি।

বিপুল গণমাধ্যমের নজর ও বাড়তি জনপ্রিয়তার মধ্যেও নিজের পারফরম্যান্স ধরে রাখাই এখন ভোজিনিয়ার সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

তথ্যসূত্র: দ্য অবজারভার, কাজেটিভি ও সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া প্রতিবেদন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad