গুম, মানবাধিকার ও সম্পত্তি হস্তান্তরে নতুন আইন

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪১ দুপুর
  • ৪৭০৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
গুমের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, ভুক্তভোগীর সম্পত্তি ব্যবহারে আদালতের অনুমতির বিধান

ন্যায়বিচার, মানবাধিকার সুরক্ষা ও আইনের শাসন জোরদারে ২০২৬ সালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন হয়েছে। এর মধ্যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সরকারি আইন তালিকা অনুযায়ী, এসব আইন যথাক্রমে ২০২৬ সালের ১০৭, ১০৬ ও ১০৫ নম্বর আইন হিসেবে ৮ সেপ্টেম্বর প্রণীত হয়েছে।

গুমের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণের পর তার অবস্থান বা পরিণতি গোপন করলে এবং এর ফলে তিনি আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হলে তা গুম হিসেবে বিবেচিত হবে।

আইনে গুমের জন্য যাবজ্জীবন বা সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। গুমের ফলে ব্যক্তির মৃত্যু হলে, লাশ পাওয়া গেলে অথবা পাঁচ বছর পরও জীবিত বা মৃত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব না হলে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

গুমের অপরাধ আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য। গুমের অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর সুরক্ষা, গুমের তথ্যভান্ডার এবং তদন্তের অগ্রগতি পরিবারকে জানানোর বিধান রয়েছে।

গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তিতে পরিবারের অধিকার

নতুন আইনে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে তার সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট আদালত গুম সনদ দিয়ে সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তরের অনুমতি দিতে পারবে।

এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি পাঁচ বছর ধরে গুম থাকেন এবং জীবিত ফিরে না এলে বৈধ উত্তরাধিকারীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার বিদ্যমান সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনের বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারবে।

নতুন কাঠামোতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’ করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যপরিধি পুনর্গঠনের পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। সরকারি আইন তালিকায় এটি ২০২৬ সালের ১০৬ নম্বর আইন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সম্পত্তি দান করেও আমৃত্যু ভোগের অধিকার

‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এ সম্পত্তি দান করার পরও দাতার জীবদ্দশায় সেটি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সম্পত্তির মালিকানা গ্রহীতার কাছে হস্তান্তর হলেও নির্দিষ্ট শর্তে দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন।

আইনটি ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে নতুন বিধান যুক্ত করেছে। সরকারি তালিকা অনুযায়ী এটি ২০২৬ সালের ১০৫ নম্বর আইন এবং ৮ সেপ্টেম্বর প্রণীত।

আরও যেসব আইনে পরিবর্তন

২০২৬ সালে এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক রেজল্যুশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইন সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারি তালিকায় ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬-কে ১০৮ নম্বর আইন হিসেবে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রণয়নের তথ্য রয়েছে।

আইন সংস্কারের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে গুমের ঘটনায় জবাবদিহি, মানবাধিকার সুরক্ষা, ভুক্তভোগীর প্রতিকার এবং সম্পত্তি হস্তান্তরে নতুন আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad