সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন।
স্বাগত বক্তব্যে ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ফজিলা-তুন-নেসা মালিক বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর ২ কোটি ৫ লাখের বেশি মানুষ কার্ডিওভাসকুলার রোগে মারা যান। বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব রোগের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধ শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর নির্ভর করে না; এ জন্য কার্যকর জনস্বাস্থ্য নীতি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন-২০২৬-এর বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় বাজেট এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী লবণ গ্রহণ সীমিত করার প্রস্তাব দেন।
অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও তামাক ব্যবহারের মতো ঝুঁকি শুরুতেই শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এ জন্য স্বাস্থ্যশিক্ষা ও জনসচেতনতার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তামাক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসাসেবার ওপর নির্ভর না করে ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন। তামাক, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হৃদরোগের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। এসব ঝুঁকি কমাতে কার্যকর জনস্বাস্থ্য নীতি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ঝুঁকি শনাক্তকরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি সরকার, চিকিৎসক, গবেষক, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ফাউন্ডেশনের যুগ্ম-মহাসচিব নওশাদ হোসেন।
বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনা মূল্যে হৃদরোগ নির্ণয় ক্যাম্প, সচেতনতামূলক পোস্টার ও লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। রাজধানীর বাইরে ফাউন্ডেশনের ৪৫টি অ্যাফিলিয়েটেড বডিও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে।
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক