বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন, বাইরে বের হওয়া ও শরীরচর্চা কমে যাওয়া, খাবারের সময়ের পরিবর্তন, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং বিভিন্ন সংক্রমণের কারণে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
দিনে একবার বা নির্দিষ্ট সময়ে গ্লুকোজ পরীক্ষা করলে ওই মুহূর্তের মাত্রা জানা যায়। কিন্তু খাবার, শরীরচর্চা, মানসিক চাপ কিংবা অসুস্থতার পর রক্তে শর্করার মাত্রা কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তা সবসময় বোঝা সম্ভব হয় না।
২৪ ঘণ্টায় গ্লুকোজের গতিপ্রকৃতিসিজিএম প্রযুক্তিতে শরীরের চামড়ার নিচে একটি ছোট সেন্সর স্থাপন করা হয়। সেটি নিয়মিত গ্লুকোজের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করে এবং বিভিন্ন সময়ে এর পরিবর্তনের তথ্য দেয়। কিছু সিজিএম ব্যবস্থায় গ্লুকোজের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে বা কমে গেলে সতর্কবার্তাও পাওয়া যায়।
ফলে রোগী ও চিকিৎসক শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের রিপোর্টের ওপর নির্ভর না করে সারাদিনের গ্লুকোজের প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করতে পারেন। এসব তথ্য রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা তৈরিতেও সহায়ক হতে পারে।
চিকিৎসা হচ্ছে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিকডিজিটাল হেলথ টুলের ব্যবহার বাড়ায় ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা ধীরে ধীরে আরও তথ্যনির্ভর ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক হচ্ছে। রোগীর জীবনযাপন, দৈনন্দিন অভ্যাস ও শারীরিক পরিস্থিতির সঙ্গে গ্লুকোজের পরিবর্তনের সম্পর্ক বোঝার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
নিরাপদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্লুকোজের তথ্য চিকিৎসকের সঙ্গে শেয়ার করা গেলে দুই অ্যাপয়েন্টমেন্টের মধ্যবর্তী সময়েও রোগীর শর্করার ওঠানামা সম্পর্কে চিকিৎসক ধারণা পেতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবারের সদস্য বা কেয়ারগিভারের সঙ্গেও এসব তথ্য শেয়ার করা সম্ভব।
খাবার, শরীরচর্চা, ঘুম ও অন্যান্য দৈনন্দিন অভ্যাসের সঙ্গে গ্লুকোজের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগী নিজের অভ্যাসের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। দীর্ঘসময় ব্যবহারযোগ্য সেন্সর, রিয়েল-টাইম গ্লুকোজ পর্যবেক্ষণ এবং উচ্চ বা নিম্ন গ্লুকোজের সতর্কবার্তার মতো প্রযুক্তিগত উন্নয়ন তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকে আরও ধারাবাহিক ও তথ্যভিত্তিক করে তুলছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক