র্যাব জানায়, বরিশাল র্যাব-৮, র্যাব-১০ ও সিপিসি-১-এর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ আভিযানিক দল ঢাকার কোতোয়ালি থানাধীন বাবুবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রহমত উল্লাহ ফরাজীকে আটক করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চা খাওয়ার সময় হামলা, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুনিহত শুক্কুর আলী (৪২) বরিশালের মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চর ধলেশ্বর এলাকার বাসিন্দা। তিনি গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় কৃষ্ণপুর এলাকার একটি দোকানে চা পান শেষে বাড়ি ফেরার পথে ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকার সালাউদ্দীনের দোকানের কাছে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা তাঁকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
জাটকা নিধন ও জুয়া বন্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগমুলাদী থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, সরকার ঘোষিত মৎস্য অভিযান চলাকালে জাটকা ইলিশ নিধন থেকে বিরত থাকতে বলা এবং কৃষ্ণপুর এলাকায় জুয়া খেলা নিষেধ করার কারণে অভিযুক্তরা শুক্কুর আলীর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
নিহতের বাবা ও মামলার বাদী আব্দুস ছত্তার ব্যাপারী অভিযোগ করেন, ডুমুরীতলা গ্রামের মোতালেব ওরফে মতু ফরাজীর ছেলে রহমত ফরাজী (৩৮), গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বারেক ফরাজী (৩৬), মোজাম্মেল ফরাজী (৩২), মন্টু ফরাজী, রফিক ফরাজী ও তাসলিমা নাসরিনসহ কয়েকজন হামলায় অংশ নেন। তাঁদের লাঠিসোঁটার আঘাতে শুক্কুর আলী গুরুতর আহত হন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রহমত উল্লাহ ফরাজীকে প্রধান আসামি করে মুলাদী থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলার অন্য আসামিদের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য র্যাবের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক