বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় ষোড়শ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন লাকি বেগম। মামলায় বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজন আসামি রয়েছেন।
রিকশা চালাতে বেরিয়ে আর ফেরেননি ইসমাইলজবানবন্দিতে লাকি বেগম বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে তার স্বামী অটোরিকশা চালানোর জন্য বাসা থেকে বের হন। মাগরিবের নামাজের সময় ছেলের এক বন্ধু এসে জানান, ডেলটা কেয়ার হাসপাতালের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইসমাইল মারা গেছেন।
খবরটি শোনার পর তিনি ও তার ছেলে অজ্ঞান হয়ে যান। পরে জ্ঞান ফিরলে দেখতে পান, এক প্রতিবেশী ভ্যানে করে ইসমাইলের মরদেহ বাসায় নিয়ে এসেছেন। তার মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন ছিল, মগজ বেরিয়ে গিয়েছিল এবং পুরো শরীর রক্তাক্ত ছিল বলে জানান লাকি বেগম।
তিনি বলেন, মরদেহের মাথায় ব্যান্ডেজ করার জন্য বেটার লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ব্যান্ডেজ ছাড়া মরদেহ নাড়াচাড়া করা যাচ্ছিল না।
অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার অভিযোগলাকি বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, বেটার লাইফ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরে তার দেবর অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেন। এরপর তিনি, তার ছেলে ও স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
পথে পুলিশ ও বিজিবি তাদের হয়রানি করে এবং অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তখন তারা ইসমাইল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন বলে জানান। পরে অ্যাম্বুলেন্স ছেড়ে দেওয়া হয়। ২০ জুলাই গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে ইসমাইলকে দাফন করা হয়।
হত্যার বিচার চাইলেন স্ত্রীলাকি বেগম বলেন, পরবর্তী সময়ে ফেসবুক, ইউটিউব ও সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে তিনি জানতে পারেন, পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে তার স্বামী নিহত হয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি রাফাত, রেদোয়ান, রাশেদুল ও মশিউরকে তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী পুলিশ ও বিজিবি সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
জবানবন্দির একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে স্বামীর হত্যার বিচার দাবি করেন তিনি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক