বৃহস্পতিবার ভারতের ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তান টাইমস ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কাজের অনুমতির জন্য মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৯টি আবেদন পেয়েছে। এর মধ্যে ৪৬ হাজার ৪০৫টি অনুমোদন এবং ৩৫ হাজার ৭৬৭টি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বাকি আবেদনগুলোর চূড়ান্ত অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
কাজের অনুমতির অপেক্ষায় লাখো আবেদনকারী
গ্রিন কার্ডের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা বিদেশিদের ওয়ার্ক পারমিট পেতে গড়ে ৬ দশমিক ৪ মাস সময় লাগছে। সংশ্লিষ্ট সময়ে এ ধরনের ৬ লাখ ৭১ হাজার ৩৬২টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল।
ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার বৃদ্ধির ফলে গ্রিন কার্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা বিদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যান্য অভিবাসন আবেদনেও প্রত্যাখ্যান
প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনসংক্রান্ত অন্যান্য আবেদনেও অনুমোদন ও প্রত্যাখ্যানের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। এইচ-১বি ভিসাসহ বিভিন্ন শ্রেণির অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের আবেদনে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৪৮টি অনুমোদনের বিপরীতে ৩৯ হাজার ৫৬০টি আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের আবেদনে প্রত্যাখ্যানের হার ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ। কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী কর্মীদের আবেদনে এ হার প্রায় ১৬ শতাংশ। তবে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যানের হার ছিল প্রায় ৭ শতাংশ।
নাগরিকত্বের আবেদনেও বেড়েছে প্রত্যাখ্যান
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনেও প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে ১ লাখ ৪০ হাজার ১৭৯টি আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। এর মধ্যে ৫৪ হাজার ৯৭৪টি অনুমোদন এবং ১২ হাজার ৫৯১টি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার আগের দুই প্রান্তিকে প্রায় ১৩ শতাংশ থাকলেও সর্বশেষ প্রান্তিকে বেড়ে ১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে নাগরিকত্বের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন ৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৭১ জন। আবেদন নিষ্পত্তিতে গড়ে ৯ দশমিক ৫ মাস সময় লাগছে।
অভিবাসন ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৬ অক্টোবর থেকে আশ্রয়, কাজের অনুমতি এবং সাময়িক সুরক্ষিত মর্যাদার আবেদনের ফি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে ইউএসসিআইএসের।
এ ছাড়া পড়াশোনা শেষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ৭০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ। এ কর্মসূচির মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৩০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাবও রয়েছে। প্রস্তাবগুলো কার্যকর হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যয় বাড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দুস্তান টাইমস ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস; প্রকাশিত প্রতিবেদন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক