ভুয়া এসআরবি পরিচয়ে অপহরণ, টেকনাফ থেকে ব্যবসায়ী উদ্ধার

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২১ বিকাল
  • ৩০১৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর প্রেম বাজার থেকে এসআরবি পরিচয়ে এহসান প্রকাশ হাসান নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণে ব্যবহৃত গাড়িসহ সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বাঁশখালী থানা পুলিশ। আটক ৬ অপহরণকারীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে অপহরণে ব্যবহৃত ১টি প্রাইভেট কার, ৫টি কালো রঙের এসআরবি কটি, ২টি ভুয়া এসআরবি পরিচয়পত্র ও ১টি হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়েছে।

১৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে বাঁশখালী থানাধীন পুঁইছড়ির প্রেমবাজারে ভিকটিমের মালিকানাধীন মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামক হার্ডওয়্যারের দোকানে কয়েকজন ব্যক্তি কালো পোশাকের ওপর এসআরবি লেখা কটি পরিহিত, মাথায় কালো ক্যাপ ও মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় প্রবেশ করে। তারা নিজেদের এসআরবি সদস্য পরিচয় দিয়ে দোকানের ক্যাশে বসা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে তার যমজ ভাই মো. হোছাইনের ছবি দেখিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করে।

একপর্যায়ে ভিকটিম নিজের পরিচয় দিলে অভিযুক্তরা তাঁ দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরায় এবং টানাহেঁচড়া করে জোরপূর্বক দোকান থেকে বের করে একটি অজ্ঞাত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে বিভিন্ন যানবাহনে স্থানান্তর করে কক্সবাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

অপহরণের পর ওই দিন ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ভিকটিমের স্ত্রী ও দোকানের ম্যানেজারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ভিওআইপি নম্বর থেকে কল করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা পরিশোধ না করলে ভিকটিমকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে ভিকটিমের ভাই মো. হোছাইন বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় মামলা করেন ।

সূত্র জানায়, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এর সার্বিক নির্দেশনায় ঘটনার পরপরই অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান ও ওসি, ডিবি মাসুদ রানার নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বাঁশখালী থানা পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। একাধিক আভিযানিক দল গঠন করে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপহরণকারীদের শনাক্ত ও তাদের অবস্থান নির্ণয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় যৌথ আভিযানিক দল কক্সবাজার জেলার সদর, পেকুয়া, উখিয়া, রামু ও টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২০ অক্টোবর কক্সবাজার সদর থানাধীন বাস টার্মিনাল, বাংলাবাজার ও কোর্টবাজার থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২১ অক্টোবর ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে কক্সবাজার জেলার টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অপহরণকারীদের হেফাজত থেকে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য সুমন মুন্সি, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার বাসিন্দা; মিজানুর রহমান, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বাসিন্দা; জয়নাল উদ্দিন, উখিয়া উপজেলার বাসিন্দা; মো. আব্বাস উদ্দিন, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা; মো. ছলিম ওরফে সেলিম (রোহিঙ্গা), টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬ এর বাসিন্দা; এবং দেলোয়ার হোসেন, কক্সবাজার সদর উপজেলার বাসিন্দা।

গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য সুমন মুন্সি অতীতে উখিয়া এলাকায় এসআরবিতে কর্মরত থাকার সময় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কিছু ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে তিনি চাকরিচ্যুত হন এবং কারাভোগ করেন বলে জানা গেছে। কারাগারে অবস্থানকালে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি ভুয়া এসআরবি পরিচয়ে একটি দল গড়ে তোলেন। এ পর্যন্ত ভুয়া এসআরবি সদস্য পরিচয়ে সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় তাঁর নামে ১৩টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad