প্রযুক্তিটি পরীক্ষার জন্য ভারতের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের সঙ্গে দুটি রকেট উৎক্ষেপণের চুক্তি করেছে রিফ্লেক্ট অরবিটাল। তবে এ উদ্যোগের সম্ভাবনার পাশাপাশি রাতের আকাশ ও পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যেভাবে কাজ করবে মহাকাশের আয়না
রিফ্লেক্ট অরবিটালের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে ১৮ মিটার বাই ১৮ মিটার আকারের বিশাল প্রতিফলক স্থাপন করা হবে। এসব প্রতিফলক নির্দিষ্ট দিকে ঘুরিয়ে সূর্যের আলো পৃথিবীর নির্দিষ্ট এলাকায় পাঠানো হবে। ফলে সূর্য অস্ত যাওয়ার পরও নির্বাচিত স্থানে আলো পাওয়া সম্ভব হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিফলিত আলো প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসের এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রাহকেরা একটি অ্যাপের মাধ্যমে পৃথিবীর যে এলাকায় আলো চান, তা নির্বাচন করতে পারবেন। সে অনুযায়ী প্রতিফলকের অবস্থান ও দিক নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রথম পরীক্ষামূলক অভিযান পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
২০৩৫ সালের মধ্যে ৫০ হাজার স্যাটেলাইটের লক্ষ্য
প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে কক্ষপথে ৫০ হাজার স্যাটেলাইট স্থাপন করা হবে। রিফ্লেক্ট অরবিটালের দাবি, এসব স্যাটেলাইটের প্রতিফলিত আলো চাঁদের আলোর মতো হবে। স্যাটেলাইটের সংখ্যা বাড়লে আলোর উজ্জ্বলতা ও স্থায়িত্বও বাড়বে বলে তাদের পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পের পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘ইয়ারেন্ডিল-১’ নামের একটি স্যাটেলাইট ব্যবহারের কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।
আলোর বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ
তবে মহাকাশ থেকে প্রতিফলিত আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর কীভাবে ছড়িয়ে পড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি গবেষণায় গাণিতিক মডেলের মাধ্যমে এ আলোর সম্ভাব্য বিস্তার বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বায়ুমণ্ডলের অণু ও অ্যারোসলের কারণে প্রতিফলিত সূর্যালোক আশপাশের আকাশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছানো আলো প্রতিফলিত হয়ে আবার বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মডেলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নির্ধারিত এলাকার বাইরেও আলোর প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি প্রতিফলক থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরেও আলোর আভা পূর্ণিমার চাঁদের আলোর চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হতে পারে বলে গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে যেসব এলাকার মানুষ এ আলোর জন্য অর্থ দেবেন না, তাঁরাও এর প্রভাবে পড়তে পারেন। তবে এসব ফলাফল গাণিতিক মডেলনির্ভর; বাস্তব পরীক্ষার আগে প্রযুক্তিটির প্রকৃত প্রভাব নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
অনুমোদন নিয়ে আপত্তি
চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রকল্পটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব ও রাতের আকাশের স্বাভাবিক অন্ধকার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় কয়েকজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদী সংগঠন এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশনের (এফসিসি) কাছে প্রকল্পটির অনুমোদন বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রযুক্তিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে এবং পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স