দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর পর আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। গত বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে।
বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের প্রচারে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে। গত দুদিন ধরে সরেজমিন ক্যাম্পাসে ঘুরে দেখা যায়, প্রার্থীরা দলবেঁধে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন। তারা শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা শুনছেন এবং নিজেদের ভাবনা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন। লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টাও করছেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর আবার একটি ছাত্র সংসদ পেতে যাচ্ছেন বলে তারা উচ্ছ্বসিত। শিক্ষার্থীরা জানান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কথা বলবে—এমন প্রতিনিধিত্বশীল ছাত্র সংসদই তাদের প্রত্যাশা। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, এরকম উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির জন্য হলেও প্রতিবছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া দরকার। তাদের মতে, নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চা গড়ে উঠবে এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরি হবে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় সংসদের পাশাপাশি হল সংসদের প্রার্থীরাও প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, হল সংসদ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট হলের সঙ্গে যুক্ত সব শিক্ষার্থী ভোট দিতে পারবেন। ফলে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতেও প্রচার চালাচ্ছেন হল সংসদের প্রার্থীরা।
এবারের শাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনটি প্যানেল গঠিত হয়েছে। এগুলো হলো—ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’, শিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত আংশিক প্যানেল ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’। এছাড়া বিভিন্ন পদে বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী (জিএস) মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি ও আমার প্যানেলের প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের কাছে যাচ্ছি। তারা আমাদের খুবই সুন্দরভাবে স্বাগত জানাচ্ছেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক