আর মাত্র ছয় দিন পরই পর্দা উঠছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর। যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি থাকছে ভিন্নধর্মী কিছু গল্পও। এর মধ্যে অন্যতম হলো—স্পেনে জন্ম নেওয়া অন্তত ১০ জন ফুটবলার এবার খেলবেন অন্য দেশের হয়ে।
বিশ্ব ফুটবলে অভিবাসী পরিবার ও দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে জাতীয় দল বেছে নেওয়ার প্রবণতা নতুন নয়। পারিবারিক শেকড়, সাংস্কৃতিক বন্ধন কিংবা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সুযোগ—বিভিন্ন কারণে এসব ফুটবলার স্পেনের বদলে অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
মরক্কোর জার্সিতে স্প্যানিশ-জন্ম পাঁচ তারকা
আশরাফ হাকিমি মাদ্রিদে জন্ম নিলেও শুরু থেকেই বেছে নিয়েছেন মরক্কোকে। রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা এই ডিফেন্ডার ২০২২ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক পেনাল্টি করে আলোচনায় আসেন।
একসময় স্পেনের বয়সভিত্তিক দলে খেলা মুনির এল হাদ্দাদি পরে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী জাতীয়তা পরিবর্তন করে মরক্কোর হয়ে খেলছেন। একই পথে হাঁটেন মালাগায় জন্ম নেওয়া ব্রাহিম দিয়াজ, যিনি বর্তমানে মরক্কোর আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা।
এ ছাড়া বার্সেলোনা অঞ্চলে জন্ম নেওয়া ওমর এল হিলালি এবং মায়োর্কায় জন্ম নেওয়া চাদি রিয়াদও আন্তর্জাতিক ফুটবলে মরক্কোকেই প্রতিনিধিত্ব করছেন।
ঘানার হয়ে ইনিয়াকি, আর্জেন্টিনার হয়ে নিকো পাজ
বিলবাওয়ে জন্ম নেওয়া ইনিয়াকি উইলিয়ামস দীর্ঘদিন স্পেনের যুব দলে খেললেও পরবর্তীতে পারিবারিক শেকড়ের টানে ঘানার জার্সি বেছে নেন। বর্তমানে তিনি ঘানার আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
অন্যদিকে টেনেরিফেতে জন্ম নেওয়া নিকো পাজ খেলছেন আর্জেন্টিনার হয়ে। তার বাবা পাবলো পাজ ছিলেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সদস্য।
মেক্সিকো, উরুগুয়ে ও ইকুয়েডরেও স্প্যানিশ-জন্ম ফুটবলার
ওভিয়েদোতে জন্ম নেওয়া মিডফিল্ডার আলভারো ফিদালগো ক্লাব ফুটবলে মেক্সিকোয় সাফল্যের পর দেশটির জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন।
আলবাসেতে জন্ম নেওয়া রদ্রিগো সালাজার পারিবারিক সূত্রে উরুগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আর মাদ্রিদে জন্ম নেওয়া জেরেমি সারমিয়েন্তো পারিবারিক শেকড়ের কারণে ইকুয়েডরের জার্সি বেছে নিয়েছেন, যদিও তার ফুটবল বিকাশের বড় একটি অংশ হয়েছে ইংল্যান্ডে।
স্পেনে জন্ম, বিশ্বকাপে অন্য দেশের হয়ে
আশরাফ হাকিমি — মরক্কো
ইনিয়াকি উইলিয়ামস — ঘানা
মুনির এল হাদ্দাদি — মরক্কো
ব্রাহিম দিয়াজ — মরক্কো
ওমর এল হিলালি — মরক্কো
চাদি রিয়াদ — মরক্কো
আলভারো ফিদালগো — মেক্সিকো
নিকো পাজ — আর্জেন্টিনা
রদ্রিগো সালাজার — উরুগুয়ে
জেরেমি সারমিয়েন্তো — ইকুয়েডর
ফলে এবারের বিশ্বকাপে স্পেন শুধু নিজেদের জাতীয় দল ‘লা রোহা’র মাধ্যমেই নয়, বরং ভিন্ন দেশের জার্সিতেও ছড়িয়ে থাকবে স্প্যানিশ ফুটবলের ছাপ। অভিবাসী পরিবার থেকে উঠে আসা এসব ফুটবলারের গল্প বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স