রহস্যময় শয়তানের সাগর! যেখানে ঢুকলে আর ফিরে আসে না কেউ!

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৯ দুপুর
  • ১২৪৫৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি-সংগৃহীত

জাহাজ থেকে শুরু করে উড়ন্ত বিমান—সবকিছুই নাকি নিমেষেই গায়েব হয়ে যায় সমুদ্রের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে। যে পথে একবার প্রবেশ করলে আর ফিরে আসে না কেউ। বছরের পর বছর ধরে চলা এই রহস্যময় এলাকাটি 'বারমুডা ট্রায়াঙ্গল' নয়, বরং এটি প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত এক রহস্যঘেরা অঞ্চল, যা স্থানীয়ভাবে ‘ডেভিল সি’ বা ‘শয়তানের সাগর’ নামে পরিচিত। কেউ বলেন, সেখানে বাস করে অশুভ কোনো শক্তি; আবার কারও দাবি, সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে আছে প্রাগৈতিহাসিক কোনো ড্রাগন!

​রহস্যের উৎস ও অবস্থান

​জাপানের রাজধানী টোকিও থেকে খুব বেশি দূরে নয়, মিয়াকে দ্বীপের আশপাশের বিস্তীর্ণ জলরাশিকে ঘিরেই জন্ম নিয়েছে এই রহস্যের গল্প। ভৌগোলিক ও রহস্যময় মিল থাকার কারণে একে অনেকেই ‘এশিয়ার বারমুডা ট্রায়াঙ্গল’ বলেও ডেকে থাকেন।

​শত বছর পুরোনো নানা কিংবদন্তিও জড়িয়ে রয়েছে এই সমুদ্রকে ঘিরে। কেউ দাবি করেন, মঙ্গল শাসক কুবলাই খাঁর বিশাল নৌবহর এখানেই হারিয়ে গিয়েছিল। আবার কেউ কেউ রহস্যময় এক নারীর গল্প বলেন, যাকে নাকি এই অভিশপ্ত এলাকায় জাহাজ চালাতে দেখা যেত।


​হারিয়ে যাওয়ার ইতিহাস ও গুজব

​গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকে এই অঞ্চলে একের পর এক জাহাজ নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়াতে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও বহু বিমান ও যুদ্ধজাহাজ এখানে হারিয়ে যায় বলে প্রচলিত রয়েছে।

​এমনকি এই রহস্যের উদঘাটন করতে জাপান থেকে ‘কায়ো মারু’ নামের একটি উন্নত গবেষণা জাহাজ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, সেই জাহাজে থাকা ৩১ জন বিজ্ঞানীসহ পুরো জাহাজটিই আর ফিরে আসেনি। এই ঘটনার পর থেকেই মূলত মানুষের মনে 'ড্রাগন' বা অতিপ্রাকৃতিক শক্তির ভয় আরও জেঁকে বসে।

​বিজ্ঞান ও গবেষকরা কী বলছেন?

​সব গল্পের পেছনে যে কোনো অলৌকিক বা ভিনগ্রহের প্রাণীর (UFO) হাত রয়েছে, তা মানতে একেবারেই নারাজ আধুনিক গবেষক ও বিজ্ঞানীরা।

মিথ্যা তথ্যের উন্মোচন: বিখ্যাত লেখক ল্যারি কুশে এই অঞ্চলের পুরোনো নথিপত্র ঘেঁটে দেখিয়েছেন যে, প্রচলিত অনেক কাহিনীরই কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। নিখোঁজ হওয়া নৌযানগুলোর বেশিরভাগই বড় কোনো যুদ্ধজাহাজ ছিল না, বরং সেগুলো ছিল ছোট মাছ ধরার নৌকা। ​ভৌগোলিক কারণ: বিজ্ঞানীদের মতে, এই অঞ্চলটি অত্যন্ত দুর্যোগপ্রবণ। সমুদ্রের তলদেশে রয়েছে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এবং গভীর খাদ। এখান থেকে অনবরত গরম লাভা ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়, যা আকস্মিক সমুদ্রের পরিবেশ বদলে দেয়। ​যোগাযোগের অভাব: পঞ্চাশের দশকে আধুনিক রেডিও বা স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য দুর্ঘটনাও পরবর্তীতে বিশাল রহস্য বা গুজবে রূপ নিত।



সূত্র: আরটিভি অনলাইন




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad