গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে বন্ধের পথে ১২০০ বেকারি

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৪ বিকাল
  • ২২৬৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে দেশের হস্তচালিত বেকারি শিল্প। দিন-রাতের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকা এবং গ্যাসের চাপ কম থাকায় চুলা জ্বালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে কোনো রকমে উৎপাদন চালু রাখছেন অনেক উদ্যোক্তা।

এর মধ্যে বেকারি শিল্পের কাঁচামালের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। উৎপাদন কমলেও কারখানার ভাড়া, শ্রমিকের বেতনসহ অন্যান্য ব্যয় কমেনি। ফলে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে না পেরে দেশের অন্তত ১২০০ হস্তচালিত বেকারি বন্ধ হওয়ার পথে।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছোট বেকারিগুলো। পরিস্থিতি সামাল দিতে রুটি, বিস্কুট ও পাউরুটির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার থেকে এসব পণ্যের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক রেজু জানান, সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা সমিতির প্রায় ১২ হাজার সদস্য বর্তমানে চরম ব্যবসায়িক সংকটের মধ্যে রয়েছেন।

তিনি বলেন, অধিকাংশ কারখানাই গ্যাসনির্ভর। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিন ঘণ্টাও গ্যাসের চাপ থাকে না। কিছু পণ্য বিদ্যুতে উৎপাদন করতে হয়। এ জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। শ্রমিকদের বসিয়ে রেখেও বেতন দিতে হচ্ছে।

বেকারি শিল্পের অধিকাংশ উদ্যোক্তা স্বল্প পুঁজির উল্লেখ করে রেজাউল হক বলেন, উৎপাদন কমলেও খরচ বেড়েই চলেছে। ফলে আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলছে না। অনেক উদ্যোক্তা দেনায় জর্জরিত। হাজার হাজার কারখানার মালিক পুঁজি হারিয়ে দেউলিয়া হওয়ার অবস্থায় রয়েছেন। এ অবস্থা আরও কিছুদিন চলতে থাকলে অন্তত ১০ শতাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।

বেড়েছে কাঁচামালের দাম

সমিতির নেতৃবৃন্দ ও কয়েকজন উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক মাসে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি বেকারি শিল্পের অধিকাংশ কাঁচামালের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বস্তা ময়দার দাম ২ হাজার ২০০-২ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ১৫০-৩ হাজার ২০০ টাকা। এক বস্তা চিনির দাম ৪ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯০০ টাকা। প্রতি ড্রাম তেলের দাম ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৪০০ টাকা। ২ হাজার ৫০০ টাকার ডালডা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকায়। ৭ টাকার ডিম কিনতে হচ্ছে ১১ টাকায়।

এ ছাড়া দুধ, ইস্ট, পলিব্যাগসহ প্রায় সব কাঁচামালের দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় শনিবার থেকে উৎপাদিত পণ্যের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।

তবে সমিতির পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে প্রতিটি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগের দামে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বেকারি পণ্য সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সহযোগিতা না পেলে এ খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পথে বসবেন।

কয়েক দিন উৎপাদন বন্ধ

জানা যায়, মূল্য সমন্বয়ের জন্য সমিতির সদস্য বেকারিগুলো গত কয়েক দিন কোনো পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করেনি। এতে বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়। মুদি দোকানগুলোতে ব্রেড পাওয়া যায়নি। ফুটপাতের চায়ের দোকানগুলোতেও রুটি, বিস্কুট ও কেক না থাকায় পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বাড়তি বা সমন্বয় করা দামের বিষয়ে ধারণা দিতে গিয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও হক ব্রেডের কর্ণধার রেজাউল হক রেজু বলেন, ৫০ টাকার পাউরুটির দাম হবে ৬০ টাকা। ১০ টাকার বনরুটি বিক্রি হবে ১৫ টাকায়। ১০ টাকার কেকের দাম হবে ১৫ টাকা। আর ৫ টাকার বিস্কুট ৫ টাকাতেই বিক্রি হবে, তবে আকার কিছুটা ছোট হবে।

তিনি বলেন, সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পণ্যের দাম ২০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হচ্ছে না। তবে ১০ টাকার বনরুটি ১৫ টাকায় বিক্রি করলে দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। সে ক্ষেত্রে পণ্যের আকার কিছুটা বাড়ানো হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad