পে-স্কেলের গেজেট হয়নি, তবু বেতন দ্বিগুণের গুঞ্জনে বাড়ছে দ্রব্যমূল্য

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৫ দুপুর
  • ২০৩০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ হচ্ছে—সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে দ্রব্যমূল্যের ওপর। এমন দাবি করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।


শনিবার খুলনা বিভাগীয় কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে সমিতির নেতারা এসব কথা বলেন। সমাবেশে দ্রুত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পাশাপাশি প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর বিভিন্ন অসংগতি সংশোধন এবং ভাতা পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক বলেন, ‘প্রথম ধাপে ১ হাজার ৩৫২ টাকা পাওয়ার কথা ঘরের বউই বিশ্বাস করে না, পাবলিক বিশ্বাস করবে কীভাবে? সাধারণ মানুষ মনে করছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সেই ধারণার সঙ্গে দ্রব্যমূল্যও বেড়েছে। অথচ এখনো পে-স্কেলের গেজেট হয়নি।’

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানালেও প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা ও হতাশা দুটোই রয়েছে। বেতন-ভাতা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে অনেক কর্মচারীর প্রত্যাশা পূরণ হবে না।

বিশেষ করে প্রথম ধাপে ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা বাদ দিয়ে হাতে যে সামান্য অর্থ আসার কথা বলা হচ্ছে, তা হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আবদুল মালেক আরও বলেন, বাড়িভাড়া ও বৈশাখী ভাতা বাড়ানোর পরিবর্তে কোথাও ৫ শতাংশ এবং কোথাও ১০ শতাংশ কমানোর সুপারিশের খবর কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। শিক্ষা ভাতাতেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নেই। তাই চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে বাড়িভাড়া, বৈশাখী ভাতা, শিক্ষা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

মূল বেতন এক ধাপে বাস্তবায়নের দাবি


পে-ফিক্সেশন ও সফটওয়্যার-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন সমিতির নেতারা। তাদের দাবি, প্রয়োজনে ভাতাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে; তবে মূল বেতন এক ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।


আবদুল মালেক বলেন, মূল বেতন ভেঙে ভেঙে নির্ধারণ করা হলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা তৈরি হতে পারে।


সমাবেশে আমন্ত্রিত অতিথি তাসলিমা আখতার বলেন, কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি সরকারের বিবেচনা করা উচিত। দীর্ঘ সময় পর পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দেশে দ্রব্যমূল্যের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। তাই বাড়িভাড়া, শিক্ষা ভাতা ও চিকিৎসা ভাতাসহ সব ধরনের ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দাবি জানান তিনি।


সমিতির মহাসচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, সচিব কমিটির গোপনীয় সুপারিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন।


তিনি বলেন, ‘এখনো চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হয়নি। ফলে কর্মচারীদের উত্থাপিত অসংগতিগুলো সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এসব বিষয় পুনর্বিবেচনা না করে গেজেট প্রকাশ করা হলে কর্মচারীদের ক্ষোভ কমবে না, বরং আরও বাড়তে পারে।’


আশিকুল ইসলাম আরও বলেন, পে-স্কেলকে কেন্দ্র করে বাজারে দফায় দফায় দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। এর প্রভাব শুধু সরকারি কর্মচারীদের ওপর নয়, সাধারণ মানুষও এর ভুক্তভোগী। তাই একটি বাস্তবসম্মত ও বৈষম্যহীন পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।


সমাবেশে বক্তারা দ্রুত নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ, সব ধরনের ভাতা পুনর্বিবেচনা, পে-ফিক্সেশন ও সফটওয়্যার-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং কর্মচারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।


সমাবেশে সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব আশিকুল ইসলাম ৫১ সদস্যের খুলনা বিভাগীয় কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন আবদুল কাদের খান এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. নাজমুল ইসলাম।


অনুষ্ঠানে বক্তারা পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে কর্মচারীদের যৌক্তিক প্রত্যাশা পূরণ এবং প্রস্তাবিত পে-স্কেলের অসংগতিগুলো সংশোধন করেই চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের দাবি জানান।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad