সলঙ্গায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় বিএনপি নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে করা সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে এর প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলাম হাসু ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন আশরাফুল ইসলাম হাসুর ভাই আরিফুল ইসলাম (হাসান)। তিনি তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশিত ও প্রচারিত বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ঘটনার সঙ্গে আশরাফুল ইসলাম হাসু কিংবা তাদের পরিবারের কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা নেই।

আরিফুল ইসলাম (হাসান) বলেন, আজকের এই সংবাদ সম্মেলন মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্য উদঘাটনের সংবাদ সম্মেলন। এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক ৯নং হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম হাসু ও ওয়ার্ডের সম্মানিত জনগন। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে ট্রেন পোড়া, বিস্ফোরক, নাশকতাসহ সাতটি মিথ্যা মামলার আসামি ছিলেন। যাহা বর্তমানে চালু আছে। আশরাফুল ইসলাম হাসু বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কাজের সাথে জড়িত। তিনি মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ বিজ্ঞান দাখিল মাদ্রাসার নির্বাচিত সভাপতি। বৃহত্তর চার গ্রামের ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সম্মানিত সভাপতি, চড়িয়া কান্দিপাড়া গ্রাম পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি এবং মাদক ও দুর্নীতি নির্মূল কমিটি ২ নম্বর ওয়ার্ডের নির্মূল কমিটির সম্মানিত সভাপতি। যাহা মাননীয় এমপি মহোদয় এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্দেশিত এই মাদক ও দুর্নীতি নির্মূল করার ক্ষেত্রে এই মাদক এবং দুর্নীতি নির্মূল কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন রকম প্রচার প্রচারণার চালানোর কারণে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন কারি ট্রান্সফার চোর চক্রের অন্যতম সদস্য শামীম চোর। যাহার সলঙ্গা থানায় মামলা নম্বর জিআর ছিয়াশি দুই হাজার ছাব্বিশ। এবং সে মামলায় সে ১০ নং আসামী। এবং সে মামলা এখনও চলমান আছে। আশরাফুল ইসলাম হাসুর নেতৃত্বে মাদকবিরোধী প্রচার প্রচারণার কারণে মূলত শামীমের চোর চুরি ও মাদক সেবন কাজের ব্যাঘাত ঘটায়। উদ্ধেশ্য প্রণোদিত ভাবে সে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করে নির্দোষ ব্যক্তিদেরকে দোষী করেছে।

আলী হাসান এবং আহমেদ আলী গ্রাম প্রধান এবং মসজিদ ও মসজিদের ক্যাশিয়ার, খাদেম ও ব্যবসায়ী। আসলে মূলত বিষয়টা হলো এই আব্দুল হাকিম ও তার দুই ছেলে আওয়ামী লীগ সদস্য। এরা দীর্ঘদিন যাবৎ হাটিকুমরুল ইউনিয়নের সিআরবিসি বাজারে দীর্ঘদিন যাবৎ সওজের নির্মিত রিকশা স্ট্যান্ডের উপর হোটেল নির্মাণ করে ব্যবহার করছিল। এই জায়গায় হোটেল নির্মাণ করার কারণে ২ নম্বর ওয়ার্ডের জনগণ সাধারণ সেখানে তাদের কৃষিজাত পণ্য সামগ্রী বিক্রয় এবং রিকশা ভ্যান নিয়ে একটু দাঁড়ানোর মতো জায়গা পায় না। তাদের সাথে খুব দুর্ব্যবহার করে ব্যবহার করার কারণে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মাননীয় এমপি মহোদয়ের নিকট থেকে পাশ নিয়ে ২০ তারিখে শত শত ছত্রিশ স্মারক নাম্বারে একখানি উচ্ছেদ দরখাস্ত প্রদান করে, যাহাতে চার গ্রামের ২০০ জন গ্রামবাসী গণ সিগনেচার করে। এই প্রেক্ষিতে এক্সেন মহোদয় মহোদয়কে নির্দেশ দেয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। এই নোটিশের আলোকে আব্দুল হাকিমকে তিন দিনের সময় দিয়ে নোটিশ প্রেরণ করে এখান থেকে তার ঘর সরিয়ে নেওয়ার জন্য। এই নোটিশে শুধু আব্দুল হাকিম নোটিশ দিয়ে ক্ষান্ত হন নাই। সলঙ্গা থানাতে হাইওয়ে ফাঁড়িতে এবং টিএনও মহোদয়কে এই নোটিশ প্রদান করেন। পরে সাত দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও যখন সেখান থেকে সে তার দোকান পাট সরিয়ে না নেয়, তখন চার গ্রামের বিক্ষুব্ধ জনতা সদরে সেই ঘর দুয়ার ভাঙচুর করে। সেখানে তারা বাজার নির্মাণ করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় শামীম সমাজের সম্মানিত এবং সমাজ সেবক, মসজিদ মাদ্রাসার খাদেম এবং ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নামে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করে এই আমাদের উপর দায়ভার চাপানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। আসলে আমরা মাদক বিরোধী প্রচারণা চালানোর কারণে তার ব্যবসা পরিচালনা এবং মাদক সেবন চোরাকারবারিদের অসুবিধা হওয়ার কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অপবাদ আমাদেরকে দিয়েছে বিধায় সামাজিক বন্ধনের মাধ্যমে আমরা ওসি মহোদয়ের কাছে, এ এসপি মহোদয়ের কাছে এবং স্যারের কাছে আমরা এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাই।

এর মাঝে একদিন ঘটনার পরের দিন এসপি মহোদয় আমাদের এখানে আসলেন। উপস্থিত জনগণ ওখানে যারা ছিলেন তারা সবাই এই সাক্ষ্য প্রদান করেছে যে বর্ণনা আমি এখানে দিলাম। উনি কাগজপত্র দেখে দরখাস্ত করলে দেখে উনি বলেছে যে শামীম কে যে তুমি কেন এখানে দোকানঘর নিয়ে বসে আছো। বিশ বছর হল তোমাকে নোটিশ দেওয়ার পরে কেন তুমি এখান থেকে দোকান সরিয়ে নিলে না?

এখন তোমার ভাঙাচোরা ইট পাটকেল যা আছে এগুলো নিয়ে তুমি অতি দ্রুত সরে যাও। আমরা এই ঘটনার সাথে কস্মিনকালেও যুক্ত ছিলাম না। আমরা সম্পূর্ণ নির্দোষ। ঘটনার সময়ও আমরা সেখানে ছিলাম না।

অথচ পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আশরাফুল ইসলাম হাসু দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক পরিচয় ও সামাজিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আরিফুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে আশরাফুল ইসলাম হাসু, আহম্মদ আলী, আনোয়ার হোসেন সুরতসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।#







কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad