শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে নতুন আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থার ওপরও চাপ বাড়ছে।
একসময় বাংলাদেশ হাম নির্মূলের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর দেশে হামে কোনো মৃত্যুর রেকর্ড ছিল না। কিন্তু চলতি বছরের মাত্র কয়েক মাসেই হাম ও এর উপসর্গে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য সামনে এসেছে। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য অনেক পরিবারকে ধার-দেনা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ শেষ সম্বলটুকুও ব্যয় করছেন। আবার সন্তান হারিয়ে শোকের পাশাপাশি ঋণের বোঝাও বহন করতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ফের টিকাদানএদিকে হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে আবারও টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার নতুন করে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, নতুন করে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হলে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তবে চলমান পরিস্থিতিতে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ, যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং টিকাদান কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স