২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। তবে ফাইনালে ওঠার পথে থ্রি লায়ন্সদের সামনে এবার সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ—লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আলবিসেলেস্তেরা কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে। শক্তিশালী মাঝমাঠ, নিখুঁত পাসিং এবং সংগঠিত প্রেসিং ফুটবলের কারণে দলটি প্রতিপক্ষের জন্য বড় বাধা হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্জেন্টিনার এই শক্তিশালী কাঠামো ভাঙতে ইংল্যান্ডকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলের ওপর জোর দিতে হতে পারে।
আক্রমণাত্মক প্রেসিংই হতে পারে মূল অস্ত্র
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রক্ষণাত্মক কৌশল বা ‘লো ব্লক’ তৈরি করে সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর মতো ডিফেন্ডাররা নিচ থেকে আক্রমণ গড়ে তুলতে অত্যন্ত দক্ষ। তাই শুরু থেকেই হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহামদের নেতৃত্বে হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলতে হবে ইংল্যান্ডকে, যাতে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ সহজে মাঝমাঠের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে না পারে।
উইং দিয়ে আক্রমণে জোর
স্কালোনির দল সাধারণত মাঠের মাঝখানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে। ফলে মাঝমাঠ দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলা ইংল্যান্ডের জন্য কঠিন হতে পারে। সে কারণে দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ সাজানোই হতে পারে কার্যকর কৌশল। আর্জেন্টিনা জোনাল মার্কিংয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করায় কোনাকুনি ক্রস ও লেট রান থেকে সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। বুকায়ো সাকা ও অ্যান্থনি গর্ডনের গতিকে কাজে লাগিয়ে বল উইংয়ে ছড়িয়ে দিতে পারলে হ্যারি কেইন ও বেলিংহামের জন্য গোলের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
৯০ মিনিটেই ম্যাচ শেষ করার লক্ষ্য
পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনা ম্যাচের শেষ ভাগেও সমান কার্যকর থাকে। এই বিশ্বকাপে তাদের ১৭ গোলের মধ্যে ৮টিই এসেছে ৮০ মিনিটের পর। ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে কম শক্তি ব্যয় করে খেলার কারণে দীর্ঘ সময়েও তারা বিপজ্জনক থাকে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজের সাফল্যের রেকর্ড ইংল্যান্ডের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। তাই অতিরিক্ত সময়ের ঝুঁকি এড়িয়ে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে হবে টুখেলের দলকে।
মেসিকে ঠেকানোর বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা
৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি নিজের অসাধারণ দক্ষতায় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। তাকে আটকাতে অতিরিক্ত খেলোয়াড় নিয়োজিত করলে মাঠের অন্য অংশে ফাঁকা জায়গা তৈরি হতে পারে, যা মেসি নিখুঁত পাসে কাজে লাগাতে সক্ষম। তাই মেসিকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা না করে তার আক্রমণ সামলে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা নিতে হবে ইংল্যান্ডকে। পাশাপাশি মাঝমাঠের প্রতিটি দ্বৈরথে জয়ী হতে এবং বলের দখল ধরে রাখতে প্রিমিয়ার লিগের পরিচিত শারীরিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে হবে থ্রি লায়ন্সদের।
টমাস টুখেলের কৌশলী পরিকল্পনা আর লিওনেল স্কালোনির সুসংগঠিত আর্জেন্টিনার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে হাসবে শেষ হাসি, তা জানার অপেক্ষায় এখন পুরো ফুটবল বিশ্ব।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক