জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে সাত দফা দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে জুলাই বিপ্লবে নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের প্রধান প্রধান ঘটনাস্থলের অধিকাংশের তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। তাই দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এতে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এখনও গ্রেপ্তার হননি। এমনকি অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেকে সরকারি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬১ জেলায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হলেও ঢাকা, রংপুর ও কুষ্টিয়া ছাড়া অধিকাংশ জেলার তদন্ত এখনো অসম্পূর্ণ। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী বা অঙ্গসংগঠনের অভিযুক্ত অনেক ব্যক্তিকে এখনো গ্রেপ্তার না করায় ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া গুম, হত্যা, মরদেহ গোপন বা ধ্বংসের অভিযোগে জড়িত সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে অস্বাভাবিক ধীরগতির কারণে বিচারপ্রার্থী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই দ্রুত ও কার্যকর বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক