জবি ছাত্রীকে র‍্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টা, সাবেক ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩০ বিকাল
  • ৩১০৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
পুরান ঢাকার কলতাবাজারে একটি ছাত্রী মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীকে র‍্যাবের পরিচয়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করলে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চলে যান বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে জনসন রোডের লবণের গুদাম গলির একটি ছাত্রী মেসে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মমতাজ আরা বর্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে বর্ষা অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁর ছোট বোনের সাবেক স্বামী সুমন মিয়া র‍্যাবের পরিচয় ব্যবহার করে তাঁকে অপহরণের চেষ্টা করেছেন।

বর্ষার দাবি, চলতি বছরের মে মাসে তাঁর ছোট বোনের সঙ্গে সুমন মিয়ার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকেই সুমন তাঁদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত আগস্টে দিনাজপুর জজকোর্টে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার পর তিনি আরও ক্ষুব্ধ হন।

বর্ষা বলেন, সুমন মিয়া একসময় র‍্যাবের আইটি বিভাগে কাজ করেছেন। সেই পরিচয় ব্যবহার করেই তাঁকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বর্ষা বলেন, ভোরে সিভিল পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি মেসে এসে দরজায় নক করেন। নিজেদের র‍্যাব সদস্য পরিচয় দিলেও তাঁরা কোনো পরিচয়পত্র, মামলা বা ওয়ারেন্ট দেখাননি। পরে তাঁকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা এবং মেসে তল্লাশি চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন বর্ষা।

মেসে গিয়ে পরিচয় দেয় র‍্যাব সদস্য হিসেবে

মেসের বাসিন্দা ও বর্ষার মেসমেট মেঘলা আক্তার জানান, ভোর পৌনে ছয়টার দিকে কয়েকজন সিভিল পোশাকের ব্যক্তি মেসে আসেন। তাঁরা প্রথমে একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে এসেছেন বলে জানান। এ সময় তাঁদের আচরণ রুক্ষ ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মেঘলার ভাষ্য, ব্যক্তিরা মেসে তল্লাশি চালানোর কথা জানান এবং দরজা না খুললে জোর করে প্রবেশের হুমকি দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানানো হয়।

একপর্যায়ে মমতাজ আরা বর্ষাকে একটি র‍্যাবের গাড়িতে তোলা হয় বলে জানান মেঘলা। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা উপস্থিত হন। তাঁর দাবি, পরে র‍্যাবের পরিচয়ে আরও কয়েকজন আসেন এবং মোট চারটি গাড়ি সেখানে ছিল।

মেঘলা বলেন, প্রথমে ওই ব্যক্তিরা সেখানে দুইজন সন্ত্রাসী থাকার কথা বললেও পরে ৩০ লাখ টাকা চুরির মামলার আসামিকে ধরতে এসেছেন বলে জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্তক্ষেপ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং সূত্রাপুর থানার ওসিকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীকে নিরাপদে রাখা সম্ভব হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে র‍্যাবের গাড়িতে তোলা অবস্থায় দেখতে পান। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা থাকলে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় ও মোবাইল নম্বর জানতে চাওয়া হলেও তাঁরা তা দিতে রাজি হননি। পরে বিষয়টি সূত্রাপুর থানার পুলিশকে জানানো হয়।

‘মামলার অভিযোগে নিতে এসেছিল’

সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে আসা ব্যক্তিরা র‍্যাবের সদস্য ছিলেন এবং একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিলেন বলে পুলিশ জানতে পারে।

ওসি বলেন, পরে তাঁরা জানতে পারেন, বিষয়টির সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে। শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীকে না নিয়েই তাঁরা চলে যান।

তবে মামলাটির বিস্তারিত জানতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় যোগাযোগ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

এদিকে, ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিষয়ে সুমন মিয়ার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি ঘটনাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে। তবে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা প্রয়োজন।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad