উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০২৫ অর্থবছরে সীতাকুণ্ডের আটটি গ্রামীণ সড়ক পুনর্নির্মাণ ও কার্পেটিংয়ের জন্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দরপত্রসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারকে কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে বরাদ্দের পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আলমগীর বলেন, ঠিকাদারের অনীহা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এসব গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ২০২৬ অর্থবছরে টিআর, কাবিটা ও কাবিখা কর্মসূচির বিভিন্ন পর্যায়ের বরাদ্দ এখনও সীতাকুণ্ডে পৌঁছায়নি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম জানান, প্রথম পর্যায়ে টিআর খাতে ৪০ লাখ টাকা, কাবিটা-কাবিখা খাতে ৩০ লাখ টাকা এবং ১০ মেট্রিক টন চাল ও ১২ মেট্রিক টন গম পাওনা রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে টিআর খাতে ৯০ লাখ টাকা, কাবিটা-কাবিখা খাতে ৮৫ লাখ টাকা এবং ৫৬ মেট্রিক টন করে চাল ও গমের বরাদ্দও আটকে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নতুন বরাদ্দ না থাকায় গ্রামীণ সড়ক সংস্কার ও ছোটখাটো অবকাঠামো মেরামতের কাজ কার্যত বন্ধ। এতে কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভরশীল দিনমজুরদের কর্মসংস্থান কমেছে। বর্ষায় বিভিন্ন সড়ক খানাখন্দ ও কাদাপানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিল্প ও পর্যটনের সম্ভাবনাময় এলাকা সীতাকুণ্ডে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, ইস্পাতসহ বিভিন্ন ভারী শিল্প গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি চন্দ্রনাথ পাহাড়, ইকোপার্ক, গুলিয়াখালী, বাঁশবাড়িয়া ও মহামায়া লেকের মতো পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দুর্বল সড়ক যোগাযোগ ও গ্রামীণ অবকাঠামোর কারণে এসব সম্ভাবনার পুরোপুরি সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
তারা দ্রুত মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ, আধুনিক সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
এর মধ্যে সীতাকুণ্ডে সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব ও শপথসংক্রান্ত আইনি জটিলতাও স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনায় রয়েছে। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরলে সীতাকুণ্ডের ঝুলে থাকা উন্নয়নকাজগুলোও গতি পাবে বলে আশা করেন তিনি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক