প্রজ্ঞাপন জারির পর এসব কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে অর্থ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের খসড়ায় ভেটিং শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এরপর পৃথক সাতটি এসআরওর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীর জন্য নতুন বেতন কাঠামোর বিস্তারিত প্রয়োগবিধি নির্ধারণ করা হবে।
সাত শ্রেণির জন্য পৃথক আদেশসরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাধারণ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মূল বেতন কাঠামো কার্যকর হলেও বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধা পৃথক বিধানের মাধ্যমে কার্যকর হবে।
সাতটি এসআরওর আওতায় থাকবে—
১. বেসামরিক প্রশাসন—সাধারণ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য।
২. পুলিশ বিভাগ—পুলিশ সদস্যদের বেতন, ভাতা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধার জন্য।
৩. বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)—বিজিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য।
৪. সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান—ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য।
৫. স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান—সরকারের বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য।
৬. সশস্ত্র বাহিনী—সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর জন্য সংশ্লিষ্ট যৌথবাহিনী নির্দেশনা ও বেতন কাঠামোর আলোকে।
৭. বিচার বিভাগ—বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা ও বিচারকদের জন্য।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, প্রজ্ঞাপন জারির পরই বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাঠামো প্রয়োগে কারিগরি ও প্রশাসনিক পার্থক্য রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই পৃথক এসআরও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাতটি এসআরওর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীর জন্য নতুন বেতন কাঠামো কীভাবে কার্যকর হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি আইবাস++-এ তথ্য হালনাগাদ এবং নতুন বেতন নির্ধারণের কারিগরি প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
আইবাস++-এ নির্ধারণ হবে নতুন বেতননবম পে স্কেল বাস্তবায়নে বড় পরিবর্তন আসছে বেতন নির্ধারণের ডিজিটাল ব্যবস্থায়। সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্য আইবাস++-এর আওতায় আরও পূর্ণাঙ্গভাবে আনার উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ বিভাগ।
এ ব্যবস্থায় প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনলাইনে আইবাস++-এ প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় চাকরিসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। এর মধ্যে পদ, গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, চাকরিতে যোগদানের তথ্য, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে।
তথ্য পূরণ ও যাচাই শেষে নতুন পে স্কেলের কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন এবং প্রযোজ্য আর্থিক সুবিধা নির্ধারণ করা হবে।
বাড়ছে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতাবর্তমানে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বেতন, পেনশন, বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় আইবাস++ ব্যবহৃত হচ্ছে। অনলাইন বেতন ব্যবস্থার মাধ্যমে বেতন বিল, জিপিএফ, ঋণ ও আয়করসংক্রান্ত হিসাব তৈরি এবং ইএফটির মাধ্যমে বেতন-পেনশন পরিশোধের সুবিধাও রয়েছে।
নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে এ ব্যবস্থার আওতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কাঠামোয় গ্রেড, মূল বেতন, ভাতা, পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্ট এবং বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীর জন্য আলাদা বিধান থাকবে। ফলে বিদ্যমান সফটওয়্যারকে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। এ কারণে প্রজ্ঞাপন জারির আগেই প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক