বুধবার বিকেল ৩টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, জিরো পয়েন্ট থেকে ক্যানালঘাট পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় দুই সারিতে পাঁচ শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। আটকে থাকা যানবাহনের মধ্যে রয়েছে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রোদ ও গরমের মধ্যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চালক, সহকারী ও যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে পদ্মায় পানির প্রবল স্রোত রয়েছে। এর বিপরীতে চলতে গিয়ে ফেরিগুলোর পারাপারে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে। একই সঙ্গে তীব্র স্রোতের কারণে সব ঘাটে ফেরি ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কয়েকটি পকেট অচল থাকায় সীমিত সংখ্যক ফেরি দিয়ে পারাপার পরিচালনা করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পুরোনো ও জরাজীর্ণ ফেরিগুলোর ধীরগতিও যানজট বাড়িয়ে দিয়েছে।
ঘাটে আটকে থাকা যশোরের ট্রাকচালক মফিজুল ইসলাম বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। খাবারের ভালো ব্যবস্থা নেই, ঘুমানোরও কোনো জায়গা নেই।
এদিকে পচনশীল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাকের চালকেরা দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় মালামাল নষ্ট হয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, বর্তমানে ঘাটের বহরে ১৭টি ফেরি রয়েছে। তবে নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরির ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত সাতটি ফেরি পর্যায়ক্রমে চালু রাখা হয়েছে। বাকি ১০টি ফেরি নিরাপদ স্থানে নোঙর করে রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে দ্রুত যানবাহন পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে।

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)