বৃহস্পতিবার এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি এ নোটিশ পাঠান।
‘প্রাথমিক সত্যতা’র বক্তব্য নিয়ে বিতর্কগত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানান দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম।
তার ওই বক্তব্যের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের কারণে আসিফ মাহমুদকে ঘিরে ব্যাপক ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়।
পরে সাংবাদিকদের জন্য দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেওয়া এক বার্তায় আখতারুল ইসলাম তার বক্তব্যটি ভুলবশত দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ বিষয়টি বাদ দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন।
তবে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি। ফলে ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া মিডিয়া ট্রায়াল ও জনমনে সৃষ্টি হওয়া নেতিবাচক ধারণা অব্যাহত রয়েছে বলে আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের তথ্যগত অসঙ্গতির দাবিআইনি নোটিশে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর তথ্যগত অসঙ্গতিও তুলে ধরা হয়েছে।
৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় তাদের চলতি দায়িত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোর অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন ১০ ডিসেম্বর ২০২৫। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির ঘটনা ঘটে ১১ মে ২০২৬। অর্থাৎ তার পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর এবং বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় ওই পদোন্নতি দেওয়া হয়।
১৫ দিনের সময়আইনি নোটিশে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে একইভাবে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যথাযথভাবে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া কোনো বক্তব্য না দেওয়ার জন্যও তাকে সতর্ক করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আখতারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স