কানাডাকে ইইউর ‘কোয়াসি সদস্য’ করার প্রস্তাব

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২২ দুপুর
  • ৪৭৫২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
কানাডাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য না করেও সদস্য রাষ্ট্রের মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আওতায় আনার প্রস্তাব উঠেছে। এ জন্য ‘ইন্টিগ্রেটেড পার্টনারশিপ’ নামে একটি নতুন কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ইউরোপিয়ান পলিসি সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ফ্যাবিয়ান জুলিগ।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি বলেন, ইইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রত্যাশী দেশগুলোর সামনে বর্তমানে মূলত পূর্ণ সদস্যপদ গ্রহণ অথবা জোটের বাইরে থাকার দুটি পথ রয়েছে। এর মাঝামাঝি আরও গভীর ও নমনীয় সম্পর্কের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত ‘ইন্টিগ্রেটেড পার্টনারশিপে’ শুধু বাণিজ্য বা একক বাজারে প্রবেশাধিকার নয়; প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর ভিত্তি হবে ভৌগোলিক অবস্থান নয়, বরং অভিন্ন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।

এই ব্যবস্থায় ইইউর সদস্য না হয়েও কোনো দেশ ‘ইন্টিগ্রেটেড পার্টনার’ হতে পারবে। আইসল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের পাশাপাশি কানাডা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অংশীদার দেশগুলো নির্দিষ্ট নীতিক্ষেত্রে ইইউর সঙ্গে নিজেদের সার্বভৌম ক্ষমতার কিছু অংশ সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করতে পারবে। সময়ের সঙ্গে এ সম্পর্ক ‘কোয়াসি-মেম্বারশিপ’ বা কার্যত সদস্যপদের কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে এর বিনিময়ে অংশীদার দেশগুলোকে ইইউর নীতিগত সুবিধার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব ও ব্যয়ও বহন করতে হবে।

সদস্যপদপ্রত্যাশীদের জন্যও সেতু

ইইউর বর্তমান সদস্যপদপ্রত্যাশী দেশগুলোর বিষয়েও সতর্ক করেছেন ফ্যাবিয়ান জুলিগ। বর্তমানে নয়টি দেশ পূর্ণ সদস্যপদের অপেক্ষায় রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিরোধ, অভ্যন্তরীণ সংস্কার, বাজেট এবং সদস্যপদ আলোচনার জটিলতার কারণে এসব দেশের কয়েকটির দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

তার মতে, ইউক্রেন ও পশ্চিম বলকানের দেশগুলোর জন্য নতুন অংশীদারত্ব ব্যবস্থা একটি অন্তর্বর্তী সেতু হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে এই ব্যবস্থা যেন পূর্ণ সদস্যপদের বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রস্তাবিত অংশীদারত্বের প্রধান শর্ত হবে ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রকৃত অভিন্নতা’। অংশীদার দেশকে উদার গণতন্ত্র, আইনের শাসন, রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার দেখাতে হবে।

প্রথম সারির প্রার্থী কানাডা

কানাডাকে এ ব্যবস্থার অন্যতম প্রথম প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় ইইউ-কানাডা শীর্ষ সম্মেলনকে প্রচলিত সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কানাডার জন্য বিশেষ মর্যাদা তৈরির প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও ইইউর সঙ্গে একটি ‘ইউনিক অ্যালায়েন্স’ বা অনন্য জোট গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ফ্যাবিয়ান জুলিগের মতে, বিশ্বব্যবস্থায় কর্তৃত্ববাদী শক্তির চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে মধ্যম শক্তির দেশগুলো পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন দেশগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

‘ইন্টিগ্রেটেড পার্টনারশিপ’ এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে পারে, যেখানে এসব দেশ নিজেদের সম্মিলিত শক্তি কাজে লাগাতে পারবে।

তবে ইইউর ভবিষ্যৎ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঝুঁকির কথাও উঠে এসেছে। ভবিষ্যতে জোটটির কোনো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশে উদার গণতন্ত্র ও ইউরোপীয় একীকরণবিরোধী শক্তি ক্ষমতায় এলে সদস্য ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার দেশগুলোকে নিয়ে একটি বিস্তৃত গণতান্ত্রিক নেটওয়ার্ক সম্মিলিত পদক্ষেপ বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

প্রস্তাবটির মূল বক্তব্য হলো—গভীর আন্তর্জাতিক সংহতির একমাত্র পথ পূর্ণ ইইউ সদস্যপদ হওয়া উচিত নয়। কোনো নির্দিষ্ট চূড়ান্ত সদস্যপদের প্রতিশ্রুতি ছাড়াই অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও কৌশলগত ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পর্যায়ের একীভূতকরণের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইউরোপের জন্য ভৌগোলিক সীমার চেয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে কারা একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত—সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad