পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের জন্য প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি), সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমিও নির্বাচন করা হয়েছে।
রামপালে ৪৪২, সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াটপিডিবি রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আশা করছে সংস্থাটি।
এদিকে ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করেছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি)। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎেও অগ্রগতিপিডিবির ওই কর্মকর্তা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক (কেডব্লিউপি) ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
পিডিবির নিজস্ব ভবন ও জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের জন্য দুই বছর আগে ১৭টি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।
পিডিবি সূত্র জানায়, কাপ্তাইয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং একাডেমিতে ১৭০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে উৎপাদনে রয়েছে। চট্টগ্রাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৩০ কিলোওয়াট-পিকের একটি ব্যবস্থা চলতি বছরের জুনে এবং রাজশাহী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১২০ কিলোওয়াট-পিকের একটি ব্যবস্থা ৫ সেপ্টেম্বর চালু হয়েছে।
এ ছাড়া ১২ সেপ্টেম্বর খুলনা পাওয়ার প্ল্যান্টে ২৬৮ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪১৯৫ কিলোওয়াট-পিকচলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর কাজ করছে পিডিবি।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে ৩০০ কিলোওয়াট-পিক, কাটাখালীতে ৭৩, বাঘাবাড়ী পাওয়ার স্টেশনে ৬৫, ভোলা ২২৫ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ১৯০, কক্সবাজার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ২৩০, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৩৩২, ঘোড়াশাল পাওয়ার স্টেশনের ভবনগুলোতে ১ হাজার ৩০০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।
এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৮৭, চট্টগ্রাম পাওয়ার স্টেশনে ৩৯০, দোহাজারী-কালীআইশ ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ১২২, শিকলবাহা পাওয়ার প্ল্যান্টে ৭৫০, হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ৮৬ এবং ঘোড়াশাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৭০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।
পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বাসসকে বলেন, পিডিবির মালিকানাধীন অব্যবহৃত ছাদ ও জমিতে নিজস্ব অর্থায়নে এসব সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের জলবায়ু সংক্রান্ত অঙ্গীকার পূরণে সহায়তা হবে। পাশাপাশি পরিবেশের ওপর চাপ কমবে এবং ব্যক্তিপর্যায়ে বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনে মানুষ উৎসাহিত হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিমের বক্তব্য; বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস); প্রকাশিত তথ্য, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স