রাফিদের উত্তর, সবসময় নয়। কারণ ওয়েবসাইট একই হলেও বিজ্ঞাপন দেখানোর সময় দুই ব্যবহারকারীর পরিস্থিতি এক নাও হতে পারে।
ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের জগতে একজন ব্যবহারকারীর সামনে কোন বিজ্ঞাপনটি দেখানো হবে, তার পেছনে কাজ করে নানা ধরনের সিগন্যাল, টার্গেটিং, কনটেক্সট, ডেটা এবং ডেলিভারি ব্যবস্থাপনা। ফলে একই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেও দুই ব্যক্তির সামনে ভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখা যেতে পারে।
টার্গেটিংয়ের নেপথ্যেরাফিদ তানভীরকে একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝান। ধরুন, একটি কোম্পানি নতুন মোটরসাইকেল বাজারে এনেছে। তারা ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে বিজ্ঞাপনটি বেশি দেখাতে চায়। সে ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা প্রত্যেক ব্যবহারকারীকে একই বিজ্ঞাপন দেখানো হবে না। এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ‘টার্গেটিং’।
ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ব্যবহারকারীকে বোঝার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনুমোদিত সিগন্যাল ব্যবহার করা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ডিভাইসের ধরন, ভৌগোলিক তথ্য, ওয়েবপেজের কনটেক্সট, ভাষা, সময় এবং ক্যাম্পেইন নির্ধারিত অডিয়েন্স সিগন্যাল।
তবে এর অর্থ এই নয় যে বিজ্ঞাপনদাতা প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য জানেন। ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যবহারকারীর সম্মতি, গোপনীয়তা এবং কোন ডেটা কীভাবে ব্যবহার করা যাবে—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সব ধরনের ডেটা ইচ্ছেমতো সংগ্রহ বা ব্যবহার করা যায় না।
কনটেক্সটও গুরুত্বপূর্ণএকজন ব্যবহারকারী রান্নার রেসিপি পড়ছেন, আরেকজন একই ওয়েবসাইটে ফুটবল নিয়ে খবর পড়ছেন। ওয়েবসাইট এক হলেও দুই পেজের কনটেক্সট ভিন্ন। বিজ্ঞাপন নির্বাচনের ক্ষেত্রে কনটেক্সট বিবেচনা করা হলে দুই ব্যবহারকারীর সামনে ভিন্ন বিজ্ঞাপন আসতে পারে।
এটি কনটেক্সচুয়াল টার্গেটিংয়ের একটি উদাহরণ। অর্থাৎ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত পরিচয়ের পরিবর্তে তিনি যে ধরনের কনটেন্ট দেখছেন, তার প্রাসঙ্গিকতাও বিজ্ঞাপন নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে টার্গেটিং যত নির্দিষ্ট, ফল তত ভালো—এমন নয়। অতিরিক্ত সংকীর্ণ টার্গেটিংয়ের কারণে কাঙ্ক্ষিত অডিয়েন্সের পরিমাণ এত কমে যেতে পারে যে ক্যাম্পেইন ঠিকমতো ডেলিভারিই হবে না। আবার টার্গেটিং খুব বিস্তৃত হলে বিজ্ঞাপন এমন মানুষের কাছেও পৌঁছাতে পারে, যাদের কাছে সেটি প্রাসঙ্গিক নয়। তাই প্রয়োজন ভারসাম্যের।
কতবার দেখানো হবে বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপনদাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কাদের কাছে পৌঁছাতে হবে? আর AdOps-এর প্রশ্ন—বাস্তবে সেই অডিয়েন্সকে কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে পাওয়া সম্ভব?
এর সঙ্গে যুক্ত আরেকটি বিষয় হলো ‘ফ্রিকোয়েন্সি’।
একজন ব্যবহারকারীকে একই বিজ্ঞাপন একবার, দুবার বা বারবার দেখানো যেতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন দেখানো সবসময় ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না। বরং অতিরিক্ত এক্সপোজার ব্যবহারকারীর বিরক্তির কারণ হতে পারে।
এ কারণে অনেক ক্যাম্পেইনে ‘ফ্রিকোয়েন্সি ক্যাপ’-এর মতো নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে একজন ব্যবহারকারী কতবার একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করা যায়।
অর্থাৎ ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে শুধু কাকে বিজ্ঞাপন দেখানো হবে, তা-ই নয়; কতবার এবং কোন পরিবেশে দেখানো হবে, সেটিও হিসাবের অংশ।
টার্গেটিংয়ের পরও বাকি থাকে বড় প্রশ্নক্যাম্পেইন শুরুর আগে বিজ্ঞাপনদাতার নির্ধারিত অডিয়েন্সের জন্য পর্যাপ্ত ‘ইনভেন্টরি’ রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করতে হয়। অর্থাৎ টার্গেটিং ঠিক করলেই বিজ্ঞাপন প্রচারের কাজ শেষ হয়ে যায় না।
একই ওয়েবসাইটে প্রতিদিন হাজারো মানুষ প্রবেশ করেন। কেউ খেলাধুলার খবর পড়েন, কেউ অর্থনীতি, আবার কেউ বিনোদনের কনটেন্ট। বিজ্ঞাপনদাতার লক্ষ্য থাকে তার পণ্যের বা সেবার জন্য প্রাসঙ্গিক ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানো।
একজন ব্যবহারকারীর চোখে এটি হয়তো শুধু একটি ব্যানার বিজ্ঞাপন। কিন্তু সেই বিজ্ঞাপনের পেছনে কাজ করে অডিয়েন্স, কনটেক্সট, ডেটা, নিয়ম, ইনভেন্টরি ও ডেলিভারি সিদ্ধান্তের একটি জটিল প্রক্রিয়া।
এবার আসে ট্র্যাকিং ও মেজারমেন্টশেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপনটি যার কাছে পৌঁছেছে, তিনি সেটি দেখেছেন কি না, ক্লিক করেছেন কি না এবং কোনো কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না—এসব জানা জরুরি। ক্যাম্পেইনের কার্যকারিতা বুঝতে প্রয়োজন হয় ট্র্যাকিং ও মেজারমেন্টের।
অর্থাৎ ব্যবহারকারীর সামনে একটি বিজ্ঞাপন দৃশ্যমান হওয়ার পেছনে যে প্রক্রিয়া কাজ করে, সেটি শুধু একটি বিজ্ঞাপন দেখানোর বিষয় নয়। সঠিক অডিয়েন্স নির্বাচন থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপনের প্রাসঙ্গিকতা, প্রদর্শনের সংখ্যা, ডেলিভারি এবং ফলাফল পরিমাপ—সব মিলিয়েই তৈরি হয় ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের সেই অদৃশ্য মেশিন।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স