শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এআই উন্নয়নের গতি কমানোর বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টিট্রাস্ট আইন লঙ্ঘন করেছে। এর ফলে অর্থের বিনিময়ে এআই সেবা ব্যবহারকারী গ্রাহকেরা প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
একই দিনে চার প্রতিষ্ঠানের সমর্থনের দাবিমামলার বাদীপক্ষের দাবি, গত ১২ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ওই দিন অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। সেখানে এআই নিরাপত্তা জোরদারের স্বার্থে প্রযুক্তিটির উন্নয়নের গতি কমাতে পুরো শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, একই দিনে ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান, স্পেসএক্সএআইয়ের ইলন মাস্ক এবং গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান ডেমিস হাসাবিস প্রকাশ্যে আমোদেইয়ের প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান।
মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, এআই খাতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেদের মধ্যে এমন সমঝোতায় পৌঁছে যে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে স্বাভাবিক গতির চেয়ে ধীরগতিতে প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাতে হবে, তাহলে তা ভোক্তাদের স্বার্থের পরিপন্থী এবং প্রতিযোগিতাবিরোধী প্রভাব ফেলতে পারে।
চার গ্রাহকের ক্লাস অ্যাকশন মামলামামলার বাদী হয়েছেন চারজন ব্যক্তি। তারা চ্যাটজিপিটি, ক্লড, গ্রোক ও জেমিনাই—এই চার এআই সেবার অর্থপ্রদানকারী গ্রাহক। তাদের পক্ষ থেকে একই ধরনের অর্থপ্রদানকারী গ্রাহকদের নিয়ে দেশজুড়ে ক্লাস অ্যাকশন মামলা করার আবেদনও জানানো হয়েছে।
বাদীপক্ষের প্রধান আইনজীবী নিক রাউলি বলেন, এআই দ্রুত মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তার মতে, বিশ্বের প্রভাবশালী মুনাফাভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট চুক্তির মাধ্যমে এআই নিরাপত্তা ও নীতিমালা নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অ্যানথ্রপিক, ওপেনএআই, গুগল ও স্পেসএক্সএআইয়ের প্রতিনিধিদের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও শনিবার পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অ্যান্টিট্রাস্ট জটিলতার কথাও বলেছিলেন আমোদেইএআই উন্নয়নের গতি কমানোর প্রস্তাব দেওয়ার সময় অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই সম্ভাব্য অ্যান্টিট্রাস্ট আইনি জটিলতার বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আন্তঃপ্রতিষ্ঠান এ ধরনের আলোচনা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যস্থতা বা অন্তত সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আলোচনার ক্ষেত্রে সরকারকে সীমিত পরিসরে আইনি ছাড় দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি মত দেন।
আমোদেইয়ের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান জানান, এআই নিরাপত্তার জন্য সবার ক্ষেত্রে অভিন্ন নিয়ম নিশ্চিত করতে একটি কেন্দ্রীয় সরকারি কাঠামোর ধারণাকে ওপেনএআই স্বাগত জানায়। তবে নিরাপত্তামূলক কাজ শুরু করতে অ্যান্টিট্রাস্ট ছাড় বা নতুন আইনের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এআই চলে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা বাড়ার মধ্যেই প্রযুক্তিটির উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তবে এআই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিন্ন মানদণ্ড তৈরি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা খাতটির নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন।
সূত্র: এনডিটিভি

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স