সাইবার আইন সংশোধন হলে ‘অনিবার্য পরিণতির নতুন মাত্রা’ হবে: গোলাম পরওয়ার

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৬ দুপুর
  • ২৯৭০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন করে রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর ‘কালাকানুন’ চাপিয়ে দেওয়া হলে সরকারের জন্য তা অনিবার্য পরিণতির নতুন মাত্রা তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতে ইসলামীর তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগ আয়োজিত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাক্‌স্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। আবার সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধন করে রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর কালাকানুন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সেটি সরকারের জন্য অনিবার্য পরিণতির আরেকটি নতুন মাত্রা হবে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনেক কালাকানুন বাতিল করে যে অধ্যাদেশ করা হয়েছিল, সেটি মোটামুটি গ্রহণযোগ্য ছিল। পরে সেটি ২০২৬ সালে প্রায় হুবহু আইনে পরিণত করা হয়। কিন্তু আইনটি কার্যকর হওয়ার চার-পাঁচ মাসের মধ্যেই কেন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী প্রস্তাব বাতিল করে বিদ্যমান আইন বহাল রাখার দাবি জানান।

‘মেজরিটির জোরে আইন বদলানো যাবে না’

জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকারের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যা ইচ্ছা করা এবং জনগণের রায় না মানার প্রবণতা অতীতের অনেক সরকারকে কর্তৃত্ববাদী করেছে—এ ইতিহাস ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে অতীতে অনেক সরকার কর্তৃত্ববাদী হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকারও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিভিন্ন আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছে এবং এখন সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের চেষ্টা করছে।

সাংবাদিক-রাজনীতিকদের আটকে দেওয়ার আশঙ্কা

সাইবার সুরক্ষা আইনে মানহানি, গুজব, অসত্য, তল্লাশি ও জব্দের মতো বিভিন্ন পরিভাষার ব্যাখ্যায় অস্পষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, এসব বিধান ব্যবহার করে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের আটকানো হতে পারে। আইনে জামিন অযোগ্য কিছু ধারাও রয়েছে দাবি করে সেগুলো বাতিলের আহ্বান জানান তিনি।

গুজব, অপতথ্য, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের মতো বিষয়গুলোর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা আইনে থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয় জীবন ও শিক্ষায় নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করা গেলে এত আইন করার প্রয়োজন হবে না বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সাংবাদিক ও লেখক আবুল আসাদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান রফিকুজ্জামান রুমান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও নাজমুন্নাহার নীলু এমপি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, গ্রীন ওয়াচ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক এমডি ও আমার দেশের যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান, ডিইউজে সভাপতি ও মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, এনটিভির হেড অব নিউজ ফখরুল আলম কাঞ্চন এবং ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদসহ অনেকে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad