সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি ও গ্যাস সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শিল্প-কারখানার স্থবিরতার মধ্যে গভীর রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনস্বার্থের পরিপন্থী। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
‘জনগণের ওপর নতুন বোঝা চাপানো হচ্ছে’তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম দায়িত্ব হলো মানুষের কষ্ট কমানো। অথচ জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন করে তোলা হচ্ছে। জনগণ যখন স্বস্তি প্রত্যাশা করছে, তখন তাদের ওপর নতুন অর্থনৈতিক বোঝা চাপানো হচ্ছে। গভীর রাতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া জনগণের সঙ্গে প্রহসনের শামিল।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষ বর্তমানে বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। হত্যা, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে শিল্প ও উৎপাদন খাতও নানা সমস্যায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত ছিল জনগণের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া।
তিনি আরও বলেন, জনগণের মতামত ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তই দীর্ঘমেয়াদে জনসমর্থন তৈরি করতে পারে না। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে উন্নয়নের কথা বলা হলেও মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগের বাস্তবতা আড়াল করা সম্ভব নয়।
মূল্যবৃদ্ধি পুনর্বিবেচনার আহ্বানবিবৃতিতে মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, জনগণের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ কমানো এবং চলমান সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জনগণের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি পরিহার করতে হবে। মানুষের কষ্ট, ক্ষোভ ও দুর্ভোগকে উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারে না। জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক