জ্বালানি তেলের দাম প্রত্যাহারের দাবি, সরকারকে জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের হুঁশিয়ারি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪১ দুপুর
  • ৮১২৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। সোমবার রাজধানীতে পৃথক কর্মসূচি ও বিবৃতিতে তারা এ দাবি জানায়। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জামায়াতের নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, গণবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে সরে না এলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ঢাকামুখী লংমার্চ করতে পারে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ। দলটির নেতারা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি হবে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি জনগণের ওপর প্রভাব ফেলে। তাঁর দাবি, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাসের মধ্যে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। এর ফলে দ্রব্যমূল্যসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে জনগণ ভোগান্তিতে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে। এজন্য সরকার একের পর এক গণবিরোধী কাজ করছে।’ তাঁর অভিযোগ, গণভোটের রায় না মেনে সংসদে জুলাই সনদ অধ্যাদেশ, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। এরপর জ্বালানি তেলের দামও বাড়ানো হয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, অবিলম্বে গণবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে সরে না এলে গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষ লংমার্চ নিয়ে ঢাকার দিকে আসবে। তখন সরকারের ক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হবে—বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। সঞ্চালনা করেন মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি। আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, রাতে প্রতি লিটার তেলের দাম ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। সাত মাসে তিন দফা মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার জনগণের ওপর ভোগান্তির বোঝা চাপিয়েছে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সর্বস্তরে দলীয়করণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি চলছে এবং পুলিশকে দলীয় বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তিনি এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিজয়নগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

মহাখালীতে জামায়াতের বিক্ষোভ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীর মহাখালীতেও বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর। বিকেল ৫টায় মহাখালী রেলগেট এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

বিভিন্ন দলের প্রতিবাদ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। একই দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের বোঝা চাপানো হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। এর মধ্যে লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনজীবনে নতুন সংকট তৈরি করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির নামে জনগণের ওপর নতুন বোঝা চাপানোর সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক বিবৃতিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানান। তাঁদের মতে, এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হবে।

এদিকে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে বিক্ষোভ করে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা। সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পরে সেখানে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, সরকার সাত মাসের ব্যবধানে তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad