সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট প্রতিদিন নতুন মাত্রা পাচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে, একই সঙ্গে বাড়ছে জাহাজভাড়াও। উপায়হীন না হলে সরকার এমন একটি ‘অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত’ নিতে চাইত না।
ছয় মাসে লোকসান ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকাজ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি খাতে সরকারকে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করায় প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।
তেলের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের যে কষ্ট হবে, তা তিনি রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে উপলব্ধি করেন উল্লেখ করে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, বাংলাদেশকে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে ডিজেল প্রায় ৪৫ লাখ টন। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি লিটার ডিজেলের গড় মূল্য ২০৫ টাকা। দেশে দাম সমন্বয়ের আগে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ১১৫ টাকা লিটারে। দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটারে ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে। এর আগে এই লোকসানের পরিমাণ ছিল ৯০ টাকা।
প্রতিমন্ত্রীর হিসাব অনুযায়ী, দাম সমন্বয় না করা হলে শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতো। সব ধরনের জ্বালানি তেল মিলিয়ে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াত প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।
ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে সামাজিক নিরাপত্তায় চাপজ্বালানি তেলে ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, সরকার অসচ্ছল পরিবারগুলোকে পারিবারিক কার্ডের আওতায় আনতে চায়। কিন্তু সামনে কোনো বিকল্প না থাকায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি উপলব্ধি করবেন।
প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশে দাম কম ছিলপ্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল। কলকাতায় ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১৩৪ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা, নেপালে ১৬১ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা, থাইল্যান্ডে ১৫১ টাকা এবং ভিয়েতনামে ১৩৭ টাকা।
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে তেল পাচারের বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি। এ কারণে পাচার ঠেকাতেও দাম সমন্বয় করা প্রয়োজন ছিল বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
দাম বাড়ানোর অভিঘাত কমানোর নির্দেশজ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর যে চাপ তৈরি হবে, তা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, জনগণের কষ্টের বিষয়টি সরকার উপলব্ধি করছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা ছাড়া বিকল্প ছিল না।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক