শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন গাজী সালাউদ্দিন। অসুস্থতার কারণে তিনি বক্তব্য দিতে না পারায় তাঁর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত।
গাজী সালাউদ্দিনের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ৫ আগস্ট তাঁকে গ্রেপ্তার করে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়। ৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারাগার ও রিমান্ডে তাঁকে নির্যাতন এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
‘অজানা ইনজেকশন দেওয়া হতো’লিখিত বক্তব্যে গাজী সালাউদ্দিন বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁর শরীরে অসংখ্য ইনজেকশন দেওয়া হয়। সারাক্ষণ জ্বর থাকত এবং তাঁকে ইনজেকশন দেওয়া হতো। একদিন হাত-পা কাঁপতে শুরু করলে চিকিৎসক ইনজেকশন দেওয়ার পর তাঁর ডান হাত ও ডান পা অবশ হয়ে যায়। পরে তাঁকে শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তাঁর দাবি, হাসপাতালের চিকিৎসক তাঁকে স্ট্রোক হয়েছে বলে জানান। তবে কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে তাঁর সিটি স্ক্যান করা হলেও রিপোর্ট সম্পর্কে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গাজী সালাউদ্দিন আরও বলেন, পরে এমআরআই করানোর জন্য তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এমআরআই মেশিনে থাকা অবস্থায় বিকট শব্দ হয়ে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কোমর থেকে পা পর্যন্ত তাঁর শরীর অবশ হয়ে যায় এবং তিনি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অচেতন ছিলেন বলে দাবি করেন। জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজেকে হাসপাতালের প্রিজন সেলে দেখতে পান।
কারাগারের পরিবেশ নিয়েও অভিযোগগাজী সালাউদ্দিনের অভিযোগ, ৫ আগস্ট তাঁকে বগুড়া কারাগারের একটি অপরিচ্ছন্ন, আলো-বাতাসহীন সেলে রাখা হয়। সেখানে বিদ্যুৎ বা ফ্যান ছিল না। কারারক্ষীদের একটি অংশ তাঁকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালিগালাজ করত বলেও দাবি করেন তিনি।
কারাগারে তাঁকে পচা ও বাসি খাবার দেওয়া হতো এবং একপর্যায়ে তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন বলে জানান। চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ না দিয়ে অজ্ঞাত ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঢাকায় এনে নির্যাতনের অভিযোগপরে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে তাঁকে ঢাকায় আনা হয় বলে জানান গাজী সালাউদ্দিন। তাঁর দাবি, কেরানীগঞ্জে রাখার পর তাঁকে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফেরার পথে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িতে উঠে তাঁকে নির্যাতন করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, নির্যাতনের সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ ও সালাহউদ্দিন আম্মারের নাম উল্লেখ করে ‘জুলাইয়ের সবাইকে’ এভাবে নির্যাতন করা হবে বলে বলা হয়।
এ ছাড়া কারাগারে আওয়ামী লীগের নেতাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁদের কেউ কেউ ফোনে কথা বলতেন, ভালো খাবার পেতেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করতে পারতেন। রাতের বেলা কয়েকজনকে গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে গিয়ে ভোরে ফেরানো হতো বলেও তিনি দাবি করেন।
‘নির্যাতনের কথা বললে পরিবারকে গুমের হুমকি’গাজী সালাউদ্দিন বলেন, নির্যাতনের কথা বাইরে প্রকাশ করলে তাঁর পরিবারের সদস্যদের গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। জীবনের ঝুঁকি থাকার পরও সত্য তুলে ধরতেই তিনি সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন বলে জানান।
বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে দাবি করে তিনি জানান, প্রস্রাব-পায়খানার জন্য তাঁকে ব্যাগ ও প্যাড ব্যবহার করতে হচ্ছে। তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে যা করা হয়েছে, আর কারও সঙ্গে যেন এমন ঘটনা না ঘটে।
তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ২৪, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক