তুরি জনগোষ্ঠীর কাজল পাঁড়ের জুডিসিয়াল সার্ভিসে সাফল্য

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০২ দুপুর
  • ৪৪৭৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার মাধাই গ্রামের তুরি জনগোষ্ঠীর সন্তান কাজল পাঁড়ে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ (সহকারী জজ) পদে সাময়িকভাবে মনোনীত হয়েছেন। ২০০ জনের তালিকায় তাঁর অবস্থান ১৪০তম।

বুধবার সন্ধ্যায় পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই কাজলের সাফল্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে মাধাই গ্রাম। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী থেকে বাড়ি ফেরার পর গ্রামের শিক্ষার্থীরা ফুলের মালা দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন। এ সময় তাঁর মা পঞ্চমী জেড়ি ও বড় বোন কল্পনা পাঁড়েও সঙ্গে ছিলেন।

দারিদ্র্য পেরিয়ে সাফল্য

মাধাই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। অনেকে দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এমনই এক ভূমিহীন কৃষক পরিবারের সন্তান কাজল। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে তিনি এখন বিচার বিভাগে যোগদানের অপেক্ষায়।

গ্রামের মোড়ল নিরঞ্জন তিরকি বলেন, কাজল তাঁদের গ্রামের গর্ব। ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তিনি পড়াশোনা করেছেন। তাঁর সাফল্য গ্রামের অন্য ছেলেমেয়েদেরও লেখাপড়ায় উৎসাহিত করবে।

কাজলের জুডিসিয়াল সার্ভিসে যাওয়ার পথও সহজ ছিল না। ২০১৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সময় তাঁর কাছে ভর্তি ফি দেওয়ার টাকাও ছিল না। বাবা-মা, মামা, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা বিভিন্নভাবে তাঁকে সহযোগিতা করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহায়তা করেছেন তিনি।

ভর্তি হওয়ার দিনই দেখেছিলেন বিচারক হওয়ার স্বপ্ন

কাজল পাঁড়ে বলেন, ২০১৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার দিনই বিচার বিভাগের ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় এক বন্ধুর ফোনে ফল প্রকাশের খবর জানতে পারেন। পরে ওয়েবসাইটে ফল দেখে নিশ্চিত হন, ২০০ জন সিভিল জজ পদে সাময়িকভাবে মনোনীত হয়েছেন।

নিজের সংগ্রামের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে কাজল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় ভর্তি ফি দেওয়ার পাশাপাশি শীতের পোশাক কেনার সামর্থ্যও ছিল না। বড় বোন গরু বিক্রির টাকা দিয়ে তাঁকে সহযোগিতা করেছিলেন। পরিবারের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরাও বিভিন্ন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। সাফল্যের এই মুহূর্তে কঠিন সময়ের সেই দিনগুলোর কথাই তাঁর সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে।

ছেলের সাফল্যে খুশি বাবা-মা

কাজলের সাফল্যে আনন্দিত তাঁর মা পঞ্চমী জেড়ি ও বাবা নরেশ পাঁড়ে। ভূমিহীন কৃষক নরেশ পাঁড়ে বলেন, সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে তাঁর ছেলে জজের চাকরি পেয়েছে—খবরটি শুনে তিনি খুব খুশি।

তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। মাটি কেটে ও দিনমজুরি করে সংসার চালিয়েছি। আমি চাই, ছেলে মাটি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুক এবং যে দায়িত্ব পেয়েছে, তা ভালোভাবে পালন করুক।’

বুধবার ১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে সিভিল জজ পদে ২০০ জনকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad