রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর: আরও ৬ আসামি কারাগারে

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৭ বিকাল
  • ১০৮৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় শাহ আলী থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার আরও ছয় আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালত এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন মো. শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, মো. শাহআলম, মো. আতিকুর রহমান, মো. কামরুল ইসলাম ও মো. শাকিল।

এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আতোয়ার রহমান। আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করেছেন। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. এমরান হুসাইনসহ কয়েকজন তাদের জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে জামিন শুনানির জন্য আগামী সোমবার দিন ধার্য করা হয়।

এর আগে শনিবার একই মামলায় মো. সোহেল, মো. জুয়েল, মো. জিহাদ হাসান ও মো. রাব্বি নামে চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

মামলার অভিযোগ

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানাধীন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবেশ করে। তারা প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আব্দুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে রাখে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রধান ফটক ভেঙে ভেকু দিয়ে প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি সেমিপাকা ঘর ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া পরিবার পরিকল্পনা সেবার আরেকটি সেমিপাকা ঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকা ক্ষতি হয়। ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ১৭ ফুট প্রস্থের সেমিপাকা ঘর, আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুরে প্রায় ২০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

রেজিস্ট্রেশন শাখার প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের স্থাপনাতেও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতির কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুরে আরও প্রায় ২ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

৬০ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যায়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে পাঁচটি ঘর, দরজা-জানালা ভাঙচুর ও মালামাল লুটে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় এবং সেখানে একটি দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মো. হানিফ মিয়াসহ (৫০) অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad