আটক ওই ব্যক্তির নাম অনিক হাওলাদার। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও একাধিকবার চুরির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়গুলো মীমাংসা করা হয়।
বাবাকে বাঁচাতে কাতর আকুতিস্থানীয়দের অভিযোগের পর ভোরে বামরাইল বাজারে অনিক হাওলাদারকে আটক করা হয়। পরে তাকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। এ খবর পেয়ে তার ৯ বছরের মেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। বাবাকে মারধর না করার জন্য সে উপস্থিত লোকজনের কাছে কাকুতি-মিনতি করতে থাকে।
একপর্যায়ে শিশুটির কর্মকাণ্ডে তৈরি হয় আরও আবেগঘন পরিস্থিতি। বাবার জন্য বাড়ি থেকে চা ও রুটি নিয়ে আসে সে। চায়ের মধ্যে রুটি ভিজিয়ে বাবার মুখে তুলে দিতে থাকে। একই সঙ্গে কাঁদতে কাঁদতে বাবাকে আশ্বস্ত করে বলে, ‘দেখো বাবা, তোমার কিচ্ছু হবে না।’
বাবার শরীরের ব্যথার জায়গায় হাত বুলিয়ে শিশুটি জানতে চায়, ‘বেশি ব্যথা পাইছো বাবা?’ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে বাবা-মেয়ের এই দৃশ্য উপস্থিত অনেকের মন ছুঁয়ে যায়।
স্থানীয় সালিশে ছেড়ে দেওয়া হয়পরে বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে অনিক হাওলাদারকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও দেখে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধান করে নেন। এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক