পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে পরিচালকদের জবাবদিহি নিশ্চিতের তাগিদ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৮ দুপুর
  • ২১৬১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট কাটিয়ে দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালকদের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে কোম্পানির ধরন, আকার, ব্যবসা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত করপোরেট সুশাসন বিধিমালা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস আয়োজিত ‘বাংলাদেশে করপোরেট সুশাসন শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা, কোম্পানির পরিচালক, পেশাজীবী, শিক্ষক, বিনিয়োগকারী ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।

কোম্পানিভেদে সুশাসনের মানদণ্ডের পরামর্শ

আলোচনায় বক্তারা বলেন, সব কোম্পানির আকার, ব্যবসার ধরন ও ঝুঁকি এক নয়। ফলে সব প্রতিষ্ঠানের ওপর একই ধরনের নিয়ম চাপিয়ে না দিয়ে তাদের সক্ষমতা ও বাস্তবতা বিবেচনায় করপোরেট সুশাসনের কাঠামো নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার হোসেন সাদাত বলেন, বিভিন্ন পক্ষের মতামত ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের অধিকার রক্ষা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে গঠনমূলক মতামতের ভিত্তিতে চলতি বছরের মধ্যে একটি বিনিয়োগবান্ধব করপোরেট সুশাসন কাঠামো প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

স্বাধীন পরিচালকদের ভূমিকা

এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে স্বাধীন পরিচালকদের প্রকৃত স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জারিন মাহমুদ হোসেইন নতুন বিধিমালা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেনের সংজ্ঞা এবং মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। টেকসই অর্থায়ন এবং পরিবেশ ও সামাজিক বিষয়সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের জন্যও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা দরকার বলে মত দেন তিনি।

করপোরেট সুশাসন বিশেষজ্ঞ লোপা রহমান বলেন, পরিচালনা পর্ষদ ও নেতৃত্বের কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য আগেই স্পষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবীন বলেন, প্রতিষ্ঠানের ধরন ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিচালনা পর্ষদকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ এ মামুন বলেন, কোম্পানির বৈচিত্র্য বিবেচনায় রেখেই সুশাসনের সুস্পষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা দরকার।

সংশ্লিষ্ট লেনদেনে স্বচ্ছতার দাবি

ইনস্টিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস বাংলাদেশের সভাপতি এম নুরুল আলম পরিচালকদের পেশাগত জ্ঞান এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যবসা সম্পর্কে বাস্তব ধারণার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

আইসিএবির এনফোর্সমেন্ট, তদন্ত ও শৃঙ্খলা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক আফসিন বাতেন বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে স্পষ্ট মূল্যায়ন পদ্ধতি থাকা দরকার।

বক্তারা বলেন, কোন ধরনের লেনদেনকে ‘সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেন’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। পাশাপাশি এসব লেনদেন সহজে শনাক্ত ও যাচাই করতে পরিচালনা পর্ষদ ও নিরীক্ষা কমিটির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) সভাপতি মনির হোসেন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় পরিচালকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বলেন, কোম্পানিগুলোর নিয়ম পরিপালনে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার রক্ষায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad