কমিটি নিয়ে বিরোধ, সদরপুরের স্কুল ছাড়ল ৪০ শিক্ষার্থী

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৬ বিকাল
  • ৩৪৫২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ফরিদপুরের সদরপুরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ৪০ শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র (টিসি) নিয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি হয়েছে। বছরের শেষভাগে একসঙ্গে এত শিক্ষার্থীর বিদ্যালয় পরিবর্তনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী টিসি নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৮২ নম্বর চরচাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয় থেকে টিসি নেওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের ৪১ নম্বর চরচাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ উপলক্ষে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এরপর থেকেই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র নেওয়ার ঘটনা শুরু হয় বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী খান বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করার পর দুই ঘণ্টার মধ্যে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আমি সংশ্লিষ্টদের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছিলাম। কেউ অনুষ্ঠানে এসেছেন, কেউ আসতে পারেননি। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা টিসি নেওয়া শুরু করে।’

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৩৬ জন টিসি নিয়েছে এবং আরও চারজন টিসির জন্য আবেদন করেছে। আরও শিক্ষার্থী টিসি নিতে পারে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাঁরা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।’

এদিকে ৫ অক্টোবর রাতে চরচাঁদপুর বাজারে টিসি নেওয়া শিক্ষার্থীদের কয়েকজন অভিভাবক সংবাদ সম্মেলন করেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মুন্নাফ শেখের নেতৃত্বে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে ঘিরে বিরোধের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মুন্নাফ শেখ অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদের মেয়েকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে সমর্থন না করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিসি নেওয়ার জন্য স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি চাপ দিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে কামরুল হাসান ও মুন্নাফ শেখের নাম উল্লেখ করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আকল শেখ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তানের পড়াশোনা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছি।’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক অভিভাবক বলেন, তাঁর সন্তান একই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে এবং তিনি বিদ্যালয়ে কোনো সমস্যা দেখেননি। তাঁর দাবি, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং এরই জেরে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কামরুল হাসান বলেন, ‘আমি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমি ফরিদপুরে থাকি। একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে আমার বিরুদ্ধে এসব রটানো হচ্ছে।’

ভাষানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মো. গোলাম কাউসার বলেন, ‘কমিটির দ্বন্দ্ব থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। একটি নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। আশা করছি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষার্থীরা আবার বিদ্যালয়ে ফিরে আসবে।’

সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, ‘কমিটির দ্বন্দ্ব থেকেই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিদ্যালয়টিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় বিরোধ বা ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে কোনোভাবেই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। বছরের শেষদিকে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিদ্যালয় পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad