পুলিশের অভিযানে আটক মাদকের আসামি ছেড়ে দিলেন ইউএনও

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪১ বিকাল
  • ৪৬১২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
একই অভিযানে একজনের কারাদণ্ড, আরেকজনকে আদালতে পাঠানো—সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে মাদকসহ আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। মাদক সেবনের অভিযোগ স্বীকার করার পর দুই যুবককে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া এবং মাদকসহ আটক এক ব্যক্তির স্ত্রীকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফফাত আরা সাঈদের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাতে কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক সেবন ও মাদক রাখার অভিযোগে আটজনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে মোবাইল কোর্টে হাজির করা হয়। একই অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কারও কারাদণ্ড, কাউকে আদালতে পাঠানো এবং কাউকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় সিদ্ধান্তগুলোর আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিরা হলেন পূর্ব গোবরিয়া গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে সিয়াম (১৮), লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাফি মিয়ার ছেলে সানি (২৭) এবং একই গ্রামের সেনু মিয়ার মেয়ে বকুলা বেগম (৩৫)। বকুলা বেগম মাদকসহ আটক ইসমাইল মিয়ার স্ত্রী।

মদসহ আটক দুই যুবককে মুচলেকায় মুক্তি

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে সিয়াম ও সানিকে প্রায় ৫০০ গ্রাম মদ ও বোতলসহ মাদকাসক্ত অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাঁদের মোবাইল কোর্টে নেওয়া হলে তাঁরা মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে। এরপর তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মদ জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয় এবং মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর গ্রামের ইসমাইল মিয়া (৫০) ও তাঁর স্ত্রী বকুলা বেগমকে তাঁদের বাড়ি থেকে মাদকসহ আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের ঘর থেকে ১১ পিস ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় ইসমাইল মিয়াকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর স্ত্রী বকুলা বেগমকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

মোবাইল কোর্ট আইনে কী বলা আছে

মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৭(২) ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ স্বীকার করলে তাঁর স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করে যথোপযুক্ত দণ্ড আরোপের লিখিত আদেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে, ৭(৩) ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যাখ্যা দিলে এবং সেই ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হলে তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিধান রয়েছে।

এ অবস্থায় মাদক সেবনের অভিযোগ স্বীকার করার পর সিয়াম ও সানিকে কোন আইনগত বিধানের আওতায় মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একইভাবে, ইসমাইল মিয়ার স্ত্রী বকুলা বেগমকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ভিত্তি কী ছিল, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, উদ্ধার করা মাদকের ধরন এবং মোবাইল কোর্টের নথিপত্র যাচাই ছাড়া পৃথক সিদ্ধান্তগুলো আইনবহির্ভূত ছিল কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

ভিন্ন সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের প্রশ্ন

পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযানে আটক অপর চারজনকে কিশোরগঞ্জের আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই অভিযানে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পৃথক ব্যবস্থা নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য, কুলিয়ারচরে মাদকের বিস্তার দীর্ঘদিনের সামাজিক সমস্যা। এ পরিস্থিতিতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কারও কারাদণ্ড, কাউকে আদালতে পাঠানো এবং কাউকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হলে প্রতিটি সিদ্ধান্তের কারণ ও আইনগত ভিত্তি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

ইউএনওর বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফফাত আরা সাঈদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। শুক্রবার তাঁর সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ও মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তথ্যসূত্র: কুলিয়ারচর উপজেলা প্রতিনিধির প্রতিবেদন; সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রের বরাত এবং মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৭(২) ও ৭(৩) ধারা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad