সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে সংবাদমাধ্যম যুগান্তর।
হারাম উপাদানে তৈরি প্রসাধনী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাশায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, খাবারের ক্ষেত্রে মানুষ হালাল-হারামের বিষয়টি বিবেচনা করলেও অনেক সময় প্রসাধনীর উপাদান সম্পর্কে সচেতন থাকে না। অথচ কিছু প্রসাধনী হারাম উপাদান দিয়ে তৈরি হতে পারে। এসব উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে তা ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। তাঁর মতে, সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রসাধনী ব্যবহার মৌলিকভাবে হারাম নয়; তবে হারাম উপাদানে তৈরি প্রসাধনী ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
ইসলামে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যচর্চাকে নিরুৎসাহিত করা হয়নি। ত্বকের শুষ্কতা দূর করা, স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখা কিংবা পরিপাটি থাকার জন্য বৈধ প্রসাধনী ব্যবহার করা যায়। তবে পণ্যের উপাদান ও সম্ভাব্য ক্ষতি যাচাই করা জরুরি।
কোরআন-হাদিসে সৌন্দর্যচর্চাপবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যেসব সৌন্দর্যসামগ্রী সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে?’ (সুরা আল-আরাফ, আয়াত ৩২)।
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর অনুমোদিত সৌন্দর্যসামগ্রীকে যথাযথ কারণ ছাড়া নিষিদ্ধ বলা যায় না।
এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯১)।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, সৌন্দর্যচর্চা বৈধ হলেও তা শরিয়তের সীমার মধ্যে হতে হবে। বিশেষ করে ত্বকের রং পরিবর্তনের জন্য ব্যবহৃত ক্রিমের ক্ষেত্রে উপাদান ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বিবেচনা করা প্রয়োজন। ত্বকের দাগ দূর করা বা স্বাভাবিক রং ফিরিয়ে আনার জন্য নিরাপদ পণ্য ব্যবহার এবং ক্ষতিকর উপাদানের মাধ্যমে ত্বকের ক্ষতি করার বিষয় এক নয়। শুধু ফর্সা হওয়ার উদ্দেশ্যে ক্রিম ব্যবহার করলেই তা হারাম হয়ে যায় না; এর উপাদান, কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচ্য।
সাজসজ্জায় পর্দার বিধান মানার তাগিদনারীদের প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে কার সামনে সাজসজ্জা প্রদর্শন করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পরপুরুষের সামনে সৌন্দর্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ইসলামের পর্দাসংক্রান্ত বিধান অনুসরণ করতে হবে।
অন্যদিকে, অজু ও ফরজ গোসলের সময় প্রসাধনীর ধরন খেয়াল রাখা জরুরি। কোনো প্রসাধনী ত্বকের ওপর এমন প্রলেপ তৈরি করলে, যা পানি ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে অজু বা ফরজ গোসলের আগে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। তবে শুধু প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে অজু ভেঙে যায় না।
সুতরাং, প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে পণ্যের উপাদান, স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য যাচাই করার পাশাপাশি ইসলামী শালীনতা ও পবিত্রতার বিধান মেনে চলা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর, ‘সৌন্দর্য বৃদ্ধির ‘ক্রিম বা কসমেটিকস’ ব্যবহার ইসলামে জায়েজ?’, প্রকাশিত ১২ অক্টোবর ২০২৬। কোরআন: সুরা আল-আরাফ, আয়াত ৩২; হাদিস: সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯১।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক